চণ্ডী লাহিড়ী
চৌরঙ্গির মার্কিন তথ্যকেন্দ্রে কিংকং দেখানো হবে। সত্যজিৎ রায়ের অনুরোধেই এই স্পেশাল প্রদর্শনের আয়োজন। দর্শকদের ভিড় প্রচুর। কতৃপক্ষ দু-সার চেয়ারের মধ্যবর্তী পায়ে হাঁটা সঙ্কীর্ণ পথটায় লাল কার্পেট বিছিয়ে ছিলেন যাতে সেখানে বসে দর্শকদের ছবি দেখার সুবিধা হয়। সেই কার্পেট পাতা মেঝেয় গৌরকিশোর ঘোষের কোলে আমার মেয়ে তুলি বসল। অদূরে অম্লান দত্ত সস্ত্রীক। গৌরজেঠু চেনা লোক, দরকার হলে তার কাঁধেও বসেও ছবি দেখা যাবে। সত্যজিৎবাবু বললেন, তুমি লম্বা, সামনে বস। সত্যজিৎ সামনে বসলেন।

দীর্ঘদেহী সত্যজিৎ অনেক কষ্টে হাঁটুমুড়ে বসলেন। পিছন থেকে আওয়াজ উঠল।
—লম্বুটাকে হটান। একটু আগে এলে কী ক্ষতি হত!
সেদিন দেখেছিলাম, সত্যজিতের ধৈর্য। ‘লম্বুকে বের করে দিন,’ ‘বসিয়ে দিন আমরা ছবি দেখতে পাচ্ছি না’—আওয়াজের মধ্যে ধীর স্থির সুস্থ মস্তিষ্কে সব অপমান, অশ্লীল কটূক্তি কানে নিচ্ছেন—ভিতরের বিরক্তি থাকলেও মুখে তার কোনো প্রতিক্রিয়া নেই।
ডাকটিকিটে ফার্স্ট প্রাইজ, ফন্ট নির্মাণে ফা¬র্ট প্রাইজ, বই-মলাটে ফার্স্ট প্রাইজ, ডিটেকটিভ গল্পে ফার্স্ট প্রাইজ—এবার হাসিমুখে অপমান সহ্য করার ব্যাপারেও ফার্স্ট প্রাইজ।
নোট নিতে এবং টেক্সট হাইলাইট করতে লগইন করুন
লগইন