চণ্ডী লাহিড়ী
খান আবদুল গফুর খান বিশুদ্ধ জনসেবার উদ্দেশ্য নিয়ে ১৯২৯ সালে খুদাই খিদমতগার (ঈশ্বরের সেবক) নামক স্বেচ্ছাসেবী বাহিনী পত্তন করেন। পাঠানদের মধ্যে রাজনৈতিক চেতনাসৃষ্টি, মুক্তি আন্দোলন, সমাজ সংস্কার, রাইফেলধারী সীমান্ত প্রদেশের নাগরিকদের অন্তরে অহিংসার প্রতি আস্থা এবং গান্ধীজির অহিংসার বাণী প্রচারই ছিল স্বেচ্ছাসেবকদের উদ্দেশ্য। এর আগে সীমান্ত প্রদেশের পাহাড়িরা নিজেদের মধ্যে নিত্য কলহে লিপ্ত হত। প্রত্যেকের হাতেই থাকত রাইফেল। কারণে-অকারণে গুলিবর্ষণ করতে তারা দ্বিধা করত না।
গফফর খান (যাকে সীমান্ত গান্ধী নামেই বৃহৎ ভারতের সবাই জানে) সীমান্ত প্রদেশের সাধারণ নাগরিকদের মধ্যে এত রাজনৈতিক চেতনা এনেছিলেন। একটি ঘটনা উল্লেখযোগ্য। ১৯৩০ আইন অমান্যের শুরুতে ব্রিটিশ সরকার তাঁকে গ্রেপ্তার করে। প্রতিবাদে পেশোয়ার শহর বিক্ষোভে অশান্ত হয়ে ওঠে। প্রথমে শহরের রাস্তায় সাঁজোয়া গাড়ি নামিয়ে সত্যাগ্রহী সীমান্ত প্রদেশবাসীদের ভয় দেখাবার চেষ্টা হয়। কিন্তু সত্যাগ্রহীরা পথরোধ করে দাঁড়ায়।

গাড়োয়াল রাইফেলসের সদস্যরা সবাই হিন্দু। খুদাই খিদমতগারের সত্যাগ্রহীরা সবাই মুসলমান। ইংরেজ সেনাপতি হুকুম দিলেন—সত্যাগ্রহীদের ওপর গুলি বর্ষণ করতে। গাড়োয়াল বাহিনী সেনির্দেশ উপেক্ষা করল। ইংরেজ শাসকরা প্রথমে পালিয়ে যান। পরে, তিনদিন পর শ্বেতাঙ্গ সেনা আনিয়ে গুলি চালিয়ে সত্যাগ্রহীদের ছত্রভঙ্গ করা হয়।
গাড়োয়াল রাইফেলসের সেনাবাহিনীর অনেকের কোর্ট মার্শাল হয়। প্রাণ দিতে না হলেও দশ থেকে পনেরো বছর কারাদন্ড হয় অনেকের।
নোট নিতে এবং টেক্সট হাইলাইট করতে লগইন করুন
লগইন