চণ্ডী লাহিড়ী
রবীন্দ্রনাথ কবি, সাহিত্যিক। জগদীশচন্দ্র বিজ্ঞানী। দুজনেই পরস্পরের গুণমুগ্ধ। একে অন্যের কাছে প্রেরণা পান। জগদীশচন্দ্র রবীন্দ্রনাথের কবিতা ও গল্প পড়ে এটা বুঝেছিলেন, আন্তর্জাতিক স্তরেও রবীন্দ্রনাথের তুল্য সাহিত্যিক খুব দুর্লভ। জগদীশচন্দ্র ইংলণ্ডে গেলেন ১৯০০ সালে। সেবছরই রবীন্দ্রনাথের কাবুলিওয়ালা গল্পটি ইংরেজিতে অনুবাদ করে পাঠালেন আমেরিকার বিখ্যাত সাহিত্যপত্র হারপার্স ম্যাগাজিনে।
হারপার্স ম্যাগাজিন রবীন্দ্রনাথের গল্প ছাপেনি। তাঁরা জানালেন, ‘ভারতীয় লেখক সম্পর্কে মার্কিন পাঠকদের কোনো আগ্রহ নেই।’

এর পর ১৩ বছর পার হয়েছে। ১৯১৩-তে রবীন্দ্রনাথ নোবেল পুরস্কার পেলেন। সারা বিশ্বের লোক রবীন্দ্রনাথকে জানতে উৎসুক। কবি আমন্ত্রিত হলেন আমেরিকায়। হারপার্স ম্যাগাজিনের মনে পড়ল জগদীশচন্দ্রকে। তাঁকে লিখলেন, রবীন্দ্রনাথ সম্পর্কে কিছু লিখে পাঠাও। জগদীশচন্দ্র এই সুযোগ ছাড়লেন না। জগদীশচন্দ্র হারপার্স ম্যাগাজিনকে যা লিখলেন তা হুবহু ছাপা হল। জগদীশ চন্দ্র লিখলেন, একদিন রবীন্দ্রনাথকে তোমরা জানতে চাওনি। আমার লেখা তোমরা ফেরৎ পাঠিয়েছিলে। তোমাদের সেই অপমানকর চিঠিটাও এই সঙ্গে পাঠাচ্ছি। আশা করি তোমাদের সেই প্রত্যাখ্যান-পত্রটাও তোমরা ছাপবে। হারপার্স জগদীশচন্দ্রের চিঠি সবটাই ছেপেছিল।
নোট নিতে এবং টেক্সট হাইলাইট করতে লগইন করুন
লগইন