চণ্ডী লাহিড়ী
গান্ধীজি আগা খাঁ প্যালেসে কারাবন্দি থাকাকালে আমৃত্যু অনশনে ব্রতী হন। সেসময় তাঁর শরীরের যা-অবস্থা, তাতে অনশনের ধকলে মারা যাবার কথা। যে-কোনো সময় তাঁর মৃত্যু ঘটতে পারে ধরে নিয়ে ব্রিটিশ সরকার প্রয়োজনমতো চন্দন কাঠ সংগ্রহ করে রাখেন। কিন্তু গান্ধীজি মারা গেলেন না। গান্ধীজিকে সামলাতে গিয়ে অসুস্থ হয়ে পড়লেন স্ত্রী কস্তুরবা গান্ধী। সেই চন্দনকাঠ কাজে লাগল তাঁকে দাহ করার জন্য।
দক্ষিণ আফ্রিকার নাটাল ল (১৮৯৪) সোসাইটি গান্ধীজিকে সেখানকার আদালতে ব্যারিস্টারি করতে দেননি তাদের বর্ণবিদ্বেষের জন্য। একশো বছর পর অনুতাপদগ্ধ নাটাল ল সোসাইটি আইনটি প্রত্যাহার করে নেন এবং গান্ধীজির প্রতি অসম্মানের জন্য দুঃখপ্রকাশ করে।

লণ্ডনের ইনার টেম্পল ও গান্ধীজির নাম ব্যারিস্টারদের তালিকা থেকে বাদ দেন কারণ গান্ধীজি ইংরেজ আইনে কারাদন্ডে দন্ডিত হয়েছিলেন। লণ্ডন ইনার টেম্পল অবশ্য ৬০ বছর পর গান্ধীজির নাম ব্যারিস্টারদের তালিকা থেকে বাদ দেবার জন্য দুঃখপ্রকাশ করে ৩০ নভেম্বর ১৯৮৮ সালে।
অসহযোগ আন্দোলনের সময় ভারতে গান্ধীজি গ্রেপ্তার হয়ে ছ-মাস কারাদন্ডে দন্ডিত হন। সংবাদটি লণ্ডনে পৌঁছোনো মাত্র ইনার টেম্পল বোর্ড এক জরুরি সভা আহ্বান করে তাঁর নাম ব্যারিস্টার তালিকা থেকে বাদ দেন। বয়ানটি ছিল এরকম: It is ordered that Mohan Das Karam Chand Gandhi having been convicted by a competent tribunal of an offence, which is the opinion of the bench disqualifies him from continuing as a member of the inn–should be debarred and his name removed from the books of the society.
গান্ধীজি কারান্তরালে—সেজন্য তাঁর এ ব্যাপারে কোনো প্রতিক্রিয়া জানা যায়নি। কিন্তু ইয়ং ইন্ডিয়া পত্রিকার সম্পাদকীয়তে বলা হয়েছিল (নভেম্বর ১৯২২)—‘A time will surely come when the Inner temple will reassert as a honour the fact that the greatest man of the time belonged to her.’
৬০ বছর পার হবার আগেই এই ভবিষ্যদবাণী সত্য প্রমাণিত হল। স্মরণ করা যেতে পারে গান্ধীজি দাদা আবদুল্লা নামক এক ভারতীয় ব্যবসায়ীর হয়ে আদালতে মামলা লড়তে যান। সেখানকার শ্বেতাঙ্গ শাসককুল তাতে প্রবল আপত্তি করেন।
নোট নিতে এবং টেক্সট হাইলাইট করতে লগইন করুন
লগইন