চণ্ডী লাহিড়ী
বার্নার্ড শ’-কে নোবেল পুরস্কার দেওয়া হয়েছিল বড়োই দেরিতে। ৭২ বছর বয়সে যখন নোবেল তাঁর নামে ঘোষিত হল তখন শরীরে মনে ভোগবাসনা নেই। টাকা নিয়ে কী করবেন! শ’ প্রথমে নোবেল প্রত্যাখ্যান করলেন। যে লক্ষ্য সামনে রেখে নোবেল দেওয়া হয় সেগুলি তাঁর পক্ষে প্রযোজ্য নয়। শর্তের প্রথমটি হল বয়সে তরুণ অথচ প্রতিভাবান হতে হবে। শ’ বললেন, আমি বয়সে তরুণ নই। দুনম্বর শর্ত হল, দরিদ্র হতে হবে। শ’র বক্তব্য তিনি দরিদ্র নন। যথেষ্ট উপার্জন করেন।
শ’ নোবেল নিতে রাজি না হওয়ায় ব্রিটেনের বিদ্বৎমন্ডলীর মাথায় বজ্রাঘাত। এইসব শর্ত তো অনেক আগেই লঙঘন করা হয়েছে। তাছাড়া, টাকা তাঁর নিজের লাগতে না পারে, কিন্তু বহু সৎকাজে সেই টাকা তো তিনি লাগাতে পারেন।
ইয়েটস, রাসেল, ওয়েলস সবাই একযোগে শ’কে অনুরোধ করলেন সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনা করতে। দেশবিদেশের বিশিষ্টজনদের টেলিগ্রাম আসতে লাগলো। শ’ শেষপর্যন্ত রাজি হলেন, তবে কয়েকটি শর্তে। সুইডিশ সাহিত্য থেকে ইংরেজিতে অনুবাদ ও ইংরেজি থেকে সুইডিসে অনুবাদ করা দরকার। কারণ সুইডিশ সাহিত্য উচ্চমানের হলেও, অনুবাদের অভাবে বিশ্বের বাজারে সেসব অজানা। বলা বাহুল্য এই প্রতিবাদের উজ্জ্বল ফসল ন্যুট হামসুনের হাঙ্গার পুরস্কার।
HUNGER— যা নোবেল পুরস্কার পায়। বাংলায় কুমারেশ ঘোষ অনুবাদ করেছিলেন।
নোট নিতে এবং টেক্সট হাইলাইট করতে লগইন করুন
লগইন