চণ্ডী লাহিড়ী
১৮৯৯। কার্জন হাতে নিয়েছেন ভারতের শাসনভার।
ফেব্রুয়ারি মাসে ভারতসভা আয়োজন করল এক সভার। উদ্দেশ্য কার্জনকে অভ্যর্থনা জানানো। তারপর ভারতসভার সম্পাদক সুরেন্দ্রনাথের ওপর ভার পড়ল সভার প্রতিনিধিদের সঙ্গে কার্জনের পরিচয় করিয়ে দেওয়ার এবং তাঁর উদ্দেশ্যে রচিত মানপত্রটি পাঠ করে শোনানো। স্থান—রাজভবন।
সেদিনের অনুষ্ঠানে একটি ছোটো আকারের অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটে। আকারে অঙ্কুর। কিন্তু তারই মধ্যে কেউ কেউ বুঝেছিলেন—এই গিরিই হয়ে দাঁড়াবে আগ্নেয়গিরি।

কার্জন কলকাতা পৌঁছোলে সুরেন্দ্রনাথ প্রমুখ ভারতসভার কয়েকজন সভ্য কার্জনকে অভিনন্দন জানাবার জন্য লাটভবনে গমন করেন। এই দলে সুরেন্দ্রনাথের জামাতা ব্যারিস্টার জে. চৌধুরী মশাইও ছিলেন। তিনি স্বদেশি দ্রব্য ব্যবহারের একজন বিশিষ্ট ব্রতী। তাই তিনি ও অপর একজন ভদ্রলোক বিলাতি বুট জুতোর পরিবর্তে দেশি নাগড়া জুতো (দিল্লি ফ্যাশনের) পরে গিয়েছিলেন। কার্জন সভাস্থলে আসবার আগে তাঁর একজন এডিকং ওই ঘরে প্রবেশ করে ভদ্রলোকদের পোশাক-পরিচ্ছদ পর্যবেক্ষণ করেন ও মি. চৌধুরী ও অপর ভদ্রলোকটিকে বাইরে জুতা ছেড়ে আসার নির্দেশ দেন। এতে তাঁরা অপমানিত বোধ করে চলে যান।
কার্জনের প্রতি এদেশের মানুষের বিরূপ মনোভাবের সূচনা এখান থেকেই। অথচ তিনি ছিলেন খুব গুণী। তিনি এদেশে না এলে, তাজমহলের যেটুকু পড়ে আছে তাও থাকত না।
নোট নিতে এবং টেক্সট হাইলাইট করতে লগইন করুন
লগইন