চণ্ডী লাহিড়ী
পোপের বিচার প্রহসনের পর শাস্তি হিসেবে গালিলিয়োকে গৃহবন্দি হয়ে বাকি জীবন কাটাতে হয়। বন্দি অবস্থাতেও গ্যালিলিয়ো মন খারাপ করে বসে থাকেননি। তাঁর বিপুল গবেষণার ফল তিনি লিখতে শুরু করলেন। না, এবার গ্রহ, উপগ্রহ, মহাকাশ নিয়ে কিছু নয়। এবারের আলোচ্য পদার্থবিদ্যা। নাম দিলেন—নিউ সায়েন্স। এযাবৎ বিজ্ঞানের নামে যা চলে এসেছে তার অনেকটাই তো অনুমাননির্ভর এবং প্রধানত লোকসংস্কার। যুক্তিনির্ভর নয়। তিনি গৃহবন্দি হিসেবে ছিলেন ফ্লোরেন্সের অদূরে আরসেট্রি (Arcetri) নামক ছোটো শহরে। পোপের কড়া আদেশ—গ্রহ-নক্ষত্র নিয়ে গ্যালিলিয়োর নতুন তত্ত্ব যেন কোথাও আলোচিত না হয়। প্রোটেস্টান্টদের সঙ্গে তাঁর দেখা-সাক্ষাৎ নিষিদ্ধ। পোপের কঠোর নির্দেশ শুনে রোমান ক্যাথলিক বিজ্ঞানীরাও ভয় পেলেন। রেনে দেকার্তে ছিলেন গ্যালিলিয়োর আমলে সবচেয়ে খ্যাতবিজ্ঞানী। ক্যাথলিক হওয়া সত্ত্বেও তিনি ভয় পেয়ে পালিয়ে গেলেন প্রোটেস্টান্ট দেশ সুইডেনে।

গৃহবন্দী গ্যালিলিয়ো বসে থাকেননি। বই লেখায় হাত দিলেন। ঘরে আলো নেই। বন্দি। অতএব মোমবাতি দেবার দরকার নেই। চারধারে সতর্ক প্রহরী। তবু বই লেখা চলল এবং একসময় শেষ হল। সেই বইয়ের পান্ডুলিপি গোপনে পাচার করে দিলেন নেদারল্যাণ্ডের Leyden শহরের ছাপাখানায়। তখনই অবশ্য ছাপা শুরু হয়নি। এদিকে দীর্ঘদিন অন্ধকারে লেখাপড়ার ফলে গ্যালিলিয়ো অন্ধ হয়ে গেলেন। এই অন্ধ অবস্থায় তাঁকে ব্রিটেন থেকে দেখতে এলেন কবি জন মিল্টন। বয়সে তরুণ মিল্টনও জানতেন না, ত্রিশ বছর পর তিনিও অন্ধ হয়ে যাবেন। অন্ধ গ্যালিলিয়ো ছাপার বই হাতে পেলেন। পড়তে পারলেন না। তবু হাসি আর আনন্দাশ্রুতে মুখ তাঁর ভরে গেল।
বন্দী অবস্থায় গ্যালিলিয়ো ১৬৮২র বড়োদিনের রাতে মারা যান। তাঁর মৃত্যুর দিনেই আরেক বিজ্ঞানীর জন্ম হয়— তিনি আইজ্যাক নিউটন।
নোট নিতে এবং টেক্সট হাইলাইট করতে লগইন করুন
লগইন