চণ্ডী লাহিড়ী
কানন দেবী প্রমথেশ বড়ুয়ার অন্তত দুটি ছবিতে সাফল্যের সঙ্গে অভিনয় করেছেন। ‘মুক্তি’ এবং ‘শেষ উত্তর’—দুটি ছবিতেই প্রমথেশ বড়ুয়া ডিরেক্টর এবং নায়ক। কানন দেবীর মুখে প্রমথেশ বড়ুয়া সম্পর্কিত মতামতের গুরুত্ব খুব। কানন দেবী জীবনের শেষ প্রান্তে এসে বড়ুয়া সাহেবের যে মূল্যায়ন করেছেন, তাতে ডিরেক্টর বড়ুয়ার প্রশংসা করলেও নায়ক প্রমথেশকে অকুন্ঠ প্রশংসা করতে পারেননি। তাঁর স্মৃতিচিত্র ‘সবারে আমি নামি’ বইটিতে কানন লিখেছেন—মি. বড়ুয়ার প্রবণতা ছিল ক্যামেরার প্রধান অংশটা নিজেই অধিকার করবার। যে দৃশ্যে উনি আছেন সেদৃশ্যে উনিই একক এবং অদ্বিতীয়। ওঁকে ছাপিয়ে আর কেউ যেন বড়ো হয়ে না ওঠে এই দিকেই যেন লক্ষ্য থাকত। এই দুর্বলতা বা অসংযম শুধুমাত্র শিল্পী পদবাচ্য অন্য শিল্পীকে হয়তো বা সাজত। কিন্তু ডিরেক্টর বড়ুয়াকে সাজে না। ডিরেক্টর হিসেবে ওঁর আর একটু আত্মত্যাগের ঝোঁক থাকা উচিত ছিল। অন্তত আমার মতে। কারণ ডিরেক্টর চাইবেন, সকল শিল্পীর অভিনয় সমান ভালো হয়ে একটা সুন্দর টিমওয়ার্ক গড়ে উঠুক।...

শেষ উত্তরে আমার অনেক ছবি এমন এ্যাঙ্গেল থেকে এসেছে যা না-আসাই বাঞ্ছনীয়। ওঁকে আমি বলেওছিলাম। কিন্তু সেত্রুটি যে শোধরানো হয়নি, তার মূলেও ছিল ওই এক কারণ।

নোট নিতে এবং টেক্সট হাইলাইট করতে লগইন করুন
লগইন