চণ্ডী লাহিড়ী
বিদ্যাসাগর তাঁর একমাত্র পুত্র নারায়ণচন্দ্রকে ত্যাজ্যপুত্র করেন। কিন্তু নারায়ণচন্দ্রকে যতটা দোষী বলে বিদ্যাসাগর মনে করতেন, ততটা দোষ নিশ্চয়ই নারায়ণচন্দ্রের ছিল না।
নারায়ণচন্দ্র বিধবা বিবাহ করেছিলেন। বিদ্যাসাগরকে না জানিয়েই তিনি পাত্রী নির্বাচন করেছিলেন। নারায়ণচন্দ্রের অপরাধ তিনি ভালবেসে বিয়ে করেছিলেন। আর এই ভালবাসার কথা তিনি ঠাকমা ভগবতী দেবীকে জানিয়েছিলেন। ভগবতী দেবী গোপন-প্রেমের ব্যাপারটা বিদ্যাসাগরকে বলতে সাহস করেননি। কারণ, বিদ্যসাগর ছিলেন খুবই রাগী।

বিদ্যাসাগরের মাতৃভক্তি নিয়ে বাজারে গল্প তো কম নেই, মায়ের আদেশে তাঁর একবার দেখার জন্য দুরন্ত নদীও পেরিয়ে ছিলেন। মায়ের আদেশে তাঁকে সারা গ্রামের দুঃস্থদের মধ্যে কম্বল বিতরণ করার গল্প তো এখন কিংবদন্তী। সেই মায়ের সঙ্গে বিদ্যাসাগরের সম্পর্কছেদ ঘটল।
বিদ্যাসাগর পুত্রের সঙ্গে সম্পর্ক ছেদ করলেও পুত্রবধূর জন্য মাসোহারার ব্যবস্থা করেছিলেন। তারপর মানসিক শান্তির জন্য কলকাতা ছেড়ে চলে যান কার্মাটারের সাঁওতালপল্লিতে।
আমরা বুনো রামনাথের নাম শুনেছি। নিজের ভালো-মন্দ চিন্তার বহু উর্দ্ধে রেখে বিদ্যাদানকেই ব্রত হিসাবে গ্রহণ করার নিদর্শন একালে মেলে না বললেই চলে। এরকম একজন স্বার্থবুদ্ধিহীন জ্ঞানতাপসের কথা আমাদের শুনিয়েছেন কবি শঙ্খ ঘোষ।
নোট নিতে এবং টেক্সট হাইলাইট করতে লগইন করুন
লগইন