চণ্ডী লাহিড়ী
সাধারণ মানুষের ধারণা বাঙালি বিজ্ঞানী জগদীশচন্দ্র প্রথম গাছের (বলা ভালো জড়পদার্থের) প্রাণ আছে এই সত্যটি আবিষ্কার করেন। ধারণাটির মধ্যে কিছু ভুল আছে। গাছের যে প্রাণ আছে এটা একটি বিশ্বাস আকারে বহুকাল ধরেই বিশ্বের বিভিন্ন দেশে প্রচলিত ছিল। ওক গাছের নাকি মানুষকে বাঁচাবার অদ্ভুত ক্ষমতা আছে। বাড়ির উঠোনে নিমগাছ লাগালে রোগভোগ হবে না। নিমগাছ পুরোনো হলে তাকে আর কাটা হবে না। সেটা তখন বাস্তুবৃক্ষ। ইনকা সভ্যতায়, সিনকোনা কাটা হলেও সেটা রীতিমতো পূজা করে ছেঁড়া হত। আমেরিকাবাসী পিউরিটান খ্রিস্টান আমিষরা সেদেশে গিয়ে একেবারে প্রথম দিকে কেবল মরা গাছের ডাল কাটতো। জঙ্গল কেটে বসত করত না কারণ বৃক্ষ স্বয়ং দেবতা, তার প্রাণ আছে, তাকে পুজো করতে হয়, হত্যা করতে নেই।

মানুষের মাথায় আছে স্নায়ুকেন্দ্র। তার ব্যথা, বেদনা, দুঃখকষ্ট উপলব্ধি নিয়ন্ত্রণ করে এই কেন্দ্রটি। গাছের এই স্নায়ুকেন্দ্র নেই। অথচ গাছের অনুভূতি আছে। এই অনুভূতি বোঝার জন্য যে অতি সূক্ষ্ম যন্ত্র দরকার সেই যন্ত্রটি আবিষ্কার করেন জগদীশচন্দ্র। তত্ত্বটি পুরোনো। সেটি সাধারণ মানুষের ইন্দ্রিয়গ্রাহ্য করার উপযোগী যন্ত্র বানানোর কৃতিত্ব ছিল জগদীশচন্দ্রের।
জগদীশচন্দ্র যতখানি বৈজ্ঞানিক, ততটাই সাহিত্যিক। রবীন্দ্রনাথ তাঁর বাল্যবন্ধু তো বটেই, ঘনিষ্ঠ বন্ধু। সেজন্য গাছপালা, প্রকৃতি সম্পর্কে তাঁর অনুভবও ছিল প্রবল। এই আবেগই তাঁকে জন পদার্থের প্রাণ আবিষ্কারে আরও প্রেরণা জোগায়।
নোট নিতে এবং টেক্সট হাইলাইট করতে লগইন করুন
লগইন