চণ্ডী লাহিড়ী
রঙ্গব্যঙ্গের পত্রিকা পাঞ্চ-এর (PUNCH) নাম শোনেন নি এমন শিক্ষিত বাঙালির সংখ্যা কম। ইংরেজ আমলে নিজের রসবোধ আছে এটা প্রমাণ করবার জন্য নিজের টেবিলে এক কপি ‘পাঞ্চ’ রাখা ছিল ইংরেজ মহলের রেওয়াজ। পাঞ্চ কেবল ইংলণ্ডে নয়, এই পত্রিকার সাফল্য দেখে প্রথম মহাযুদ্ধের কাছাকাছি সময়ে জার্মানে আমেরিকা ও রাশিয়ার মধ্যে প্রতিযোগিতা পড়ে যায়, কোন দেশ কত রসিক সেটা প্রমাণ করতে। জার্মানরা ক্লাডারডাশ, মার্কিনিরা পাক (Puck) বের করেন। দিল্লিতেই ইংরেজদের নেতৃত্বে Delhi Despach-এর নীচে ইন্ডিয়ান পাঞ্চ লেখা থাকত। রাশিয়া পিছিয়ে থাকবে কেন? তারাও বের করল নভী মির।
কিন্তু পাঞ্চ কীভাবে তৈরি হল সেকথা এদেশে তো বটেই, খোদ ইংলণ্ডেও বেশি লোক জানেন না।
‘পাঞ্চ’-এর এককালের সম্পাদক হেনরি মেহিউ (Henry Mayhew) ১৮৪১ সালের পাঞ্চ-এ লিখেছেন— যখন নতুন Westminister Palace (যেটি এখন House of Commons) তৈরি হল তখন প্রিন্স এলবার্ট এবং তাঁর উপদেষ্টারা ঠিক করলেন প্রাসাদের দেয়ালে ফাঁকা রাখেবেন না, ফ্রেস্কো করবেন। তাঁরা একটি প্রতিযোগিতা আহ্বান করলেন। কার্টুন কথাটির অর্থ খসড়া ড্রইং। বিখ্যাত মানুষদের খসড়া স্কেচ করে বিখ্যাত শিল্পীরা পাঠালেন। সেসব দেখে সবারই খুব হাসি পেল। তবে এটা বোঝা গেল, এত বড়ো বিশাল দেয়ালে আঁকার অভিজ্ঞতা কারও নেই। আঁকলে কেমন দাঁড়াবে সেটার যে ড্রইং শিল্পীরা জমা দিয়েছেন সেগুলি কার্টুন হয়ে দাঁড়িয়েছে। Some of the drawing were ludicrous Punch was quick to satirise them in a series of Punch Cartoons.
তখন নাম দেওয়া হয়েছিল The montly sheet of caricature—সাল ১৮৩০, ছাপার মাধ্যম লিথোগ্রাফি। প্রধান শিল্পীর নাম Robert Seymour এবং প্রকাশক Thomas Mclean.
এর আগেই ফ্রান্স থেকে বের হয়েছিল Philippan’s Journal —সেই পত্রিকাকে অনুসরণ করে পাঞ্চ-এর যাত্রা শুরু হয়।

মার্কিন কার্টুন পত্রিকা Puck প্রকাশিত হয়েছিল ১৮৭৬ সালে। লণ্ডন পাঞ্চ-কে কপি করার চেষ্টা থাকলেও হিউমার বা স্যাটায়োর তেমন তীব্র ছিল না। আমেরিকায় প্রথম পেশাদার কার্টুনিস্ট Pierre Leone Ghezz। ইনি ভালো পোট্রেট করতে পারতেন। চরিত্রগুলিকে রোমান রাজা, রোমান যোদ্ধা, রোমান নারী এরকম ভাবে চিত্রিত করতেন।
নোট নিতে এবং টেক্সট হাইলাইট করতে লগইন করুন
লগইন