চণ্ডী লাহিড়ী
প্রাণীবিজ্ঞানের ক্ষেত্রে ডারউইন এবং ওয়ালেস দু-জনেই একই তত্ত্ব আবিষ্কার করেন। জীবনযুদ্ধে কেবল যোগ্যজন টিকে থাকবে, অযোগ্য ও দুর্বল হারিয়ে যাবে। প্রকৃতির নিজস্ব নিয়ম আছে। এরই ইংরেজি নাম দেওয়া হয়েছিল ইভোলুসন বাই ন্যাচারাল সিলেকশন। দক্ষিণ আমেরিকার টিয়েরা ডেল ফুগো অঞ্চলে ডারউইন যান। জাহাজের নাম বিগল। ২৭ ডিসেম্বর ১৮৩১ সালে যাত্রা শুরু করেন। পাঁচ বছর তিনি এই জাহাজে থাকেন। এই অঞ্চলের কীটপতঙ্গ, গাছপালা, মানুষ ও জীবজানোয়ার সব কিছু তিনি পর্যবেক্ষণ করেন। কীটপতঙ্গের নমুনা সংগ্রহ এবং জীবজানোয়ার মানুষের ছবি এঁকে রেখে দেন।

দেশে ফিরে ডারউইন অসুস্থ হয়ে পড়েন। দিনের পর দিন দক্ষিণ আমেরিকার বিভিন্ন অঞ্চলে প্রকৃতি পর্যবেক্ষণ করে যে-সিদ্ধান্তে পৌঁছেছিলেন তাকে একটি থিয়োরিতে দাঁড় করানো দরকার। কিন্তু সাহস করছিলেন না। বাধা ছিল সামাজিক পরিবেশ।
অনেক পরিশ্রমের পর নিজের থিয়োরি খাতায় লিখে প্রমাণাদি উল্লেখ করে কাজটা শেষ করেন। স্ত্রীকে বলেন, তাঁর মৃত্যুর পর যেন বইটি ছাপা হয়। ডারউইন এসময় গুরুতর অসুস্থ। তাঁর ধারণা ছিল, অচিরে তাঁর মৃত্যু ঘটবে।
ওদিকে ওয়ালেসও ১৮৪৮ সালে আমাজন নদীর গভীর অরণ্য অঞ্চলে হাজার মাইল ভ্রমণ করেন। সংগ্রহ করেন বহুকীটপতঙ্গ, নানা ধরনের কুমির। পাখির ছবি এঁকে রাখেন। পরবর্তীকালে মালয়ের জঙ্গলেও তিনি ভ্রমণ করেন। আমাজনের জঙ্গলে যেসব মানুষ তখন বাস করত, সেই ভিক্টোরিয়ান যুগে ইংরেজদের চোখে তারা নরখাদক। বড়োই বন্য।
ওয়ালেস এইসব বন্য-মানুষকে খুব নিকট থেকে দেখেন। তাদের ভাষা, সামাজিক রীতিনীতি, খাদ্যসংগ্রহের প্রণালী সব গভীরভাবে পর্যবেক্ষণ করে এই সিদ্ধান্তে পৌঁছলেন যে, আমাজনের বেঁটেখাটো নিগ্রোদের যতটা অসভ্য বলে ভাবা হত তত অসভ্য নয়। তাদের মস্তিষ্ক এবং ইংরেজদের মস্তিষ্কের গঠনপ্রণালীর মধ্যে পার্থক্য সামান্যই। আবার গরিলা শিম্পাঞ্জির (ape) মস্তিষ্কের গঠনের সঙ্গে আমাজনি নিগ্রোদের মস্তিষ্কের গঠনে ফারাক সামান্য। আরও সহজ করে বলা যায়, শিম্পাঞ্জি, আফ্রিকার অরণ্যবাসী নিগ্রো এবং একজন সভ্য ইংরেজ— জন্মসূত্রে বাঁধা।
নোট নিতে এবং টেক্সট হাইলাইট করতে লগইন করুন
লগইন