চণ্ডী লাহিড়ী
ব্যক্তি ও সমাজজীবনে অনেক অঘটনের মূলে আছে একজন নারী। ফরাসিতে প্রবাদ আছে—লা ফাম। অর্থাৎ খোঁজ নিয়ে দেখ, ব্যাপারটার পেছনে কোনো নারীর স্থূল বা সূক্ষ্ম নারীর হাত আছে।
নেপোলিয়নের সেনাপতি হবার পেছনে আছে তাঁর প্রণয়িনী, যিনি বিপ্লবের সময় ফ্রান্সের দন্ডমুন্ডের কর্তা ডিরেক্টরির প্রধান বারাসের রক্ষিতা।
কাশ্মীরের বিচ্ছিন্নতাবাদের মূল নায়ক হিসেবে শেখ আবদুল্লাকে চিহ্নিত করা হয়। মীরা নায়ারকে কংগ্রেসের এ.আই.সি.-র অধিবেশনে জহরলাল যদি অপমান না করতেন তাহলে শেখ আবদুল্লা বাড়াবাড়ি করতে সাহস করতেন না। নেহরুর কাছে অপমানিত হওয়ার পরেই মীরা নায়ার সোজা শ্রীনগরে গিয়ে শেখ আবদুল্লার পাশে থাকতে শুরু করেন। তাঁকে তাতিয়ে তোলেন, কাশ্মীরকে স্বাধীন দেশ হিসেবে স্বপ্ন দেখাতে শুরু করেন। তারই পরিণাম—কাশ্মীরে শেখ আবদুল্লার ডিগবাজি ও বিচ্ছিন্নতাবাদের উৎপত্তি ও বিকাশ। এখানেও লা ফাম।
এ ব্যাপারে সবাইকে টেক্কা দিয়েছেন পাকিস্তানের এক সময়ের সর্বাধিনায়ক ইয়াহিয়া খানের প্রেমিকা আসলিন। আড়ালে সবাই তাঁকে ডাকতো ‘রানি জেনারেল’ বলে। জেনারেলের বান্ধবী, সোজা কথা নয়।
ষাটের দশকে মদ্যপান পাকিস্তানে নিষিদ্ধ ছিল না। উচ্চপদস্থ অফিসার ও অভিজাত পরিবারের অনেকেই সন্ধ্যার পর ক্লাবে গিয়ে মদ্যপান করতেন। দুচার পেগ স্কচ পেটে পড়ার পরই তাঁদের অনেকেই চাইতেন ছোটো টয়লেটের জন্য বাথরুমে যেতে। আসলিন সেই সময় হাত ধরে নিয়ে যেতেন বাথরুমে। এভাবে আসলিনের পরিচয় ঘটেছিল বহু বিখ্যাত ব্যক্তির নিকটে যাওয়ার এবং সেই সব বিখ্যাত ব্যক্তিদের একান্ত ব্যক্তিগত চাহিদার খোঁজখবর নেওয়া এবং গোপনে পাইয়ে দেওয়ার। জেনারেল ইয়াহিয়ার ইচ্ছা হয়েছিল সেসময়কার (ষাটের দশক) পরমাসুন্দরী অভিনেত্রী নুরজাহানকে একটু কাছে পাওয়ার। আসলিন জানতে পেরেই ইসলামাবাদ থেকে চলে যান লাহোরে এবং নুরজাহানকে পৌঁছে দেন জেনারেল ইয়াহিয়ার অন্দরমহলে। সামরিক জমানায় ইয়াহিয়ার সঙ্গে বহুবার নুরজাহানকে দেখা গেলেও কেউ মুখ খোলেনি। তাছাড়া যারা মুখ খুলবে তারাও তো আসলিনের সাহায্য নিয়ে কোনো না কোনো কুকর্মে রত হয়েছেন। সেনাবাহিনীর সবাই জেনে গিয়েছে আসলিনের যৌবন না থাকতে পারে, কিন্তু আসলিনকে সেলাম ঠুকতে পারলে, সেই মহিলা ইয়াহিয়াকে দিয়ে অসম্ভব কাজও করিয়ে নিতে পারে। সেজন্য তার নাম রানি জেনারেল। আসলিন আদর করে ‘আগা জানি’ বলে ইয়াহিয়াকে ডাকতেন।
এর পর ভুট্টোর আবির্ভাব। ভুট্টোর কীর্তিকলাপও আসলিনের অজানা ছিল না। আসলিন মুখ খুললে অনেক গোপন তথ্য ফাঁস হতে পারে। সেজন্য ক্ষমতায় এসেই ভুট্টো সবার আগে আসলিনকে গ্রেপ্তার করে কারাকক্ষে পাঠিয়ে দেন। মনে হয় আসলিন আকতারকে কারান্তরালেই প্রাণ দিতে হয়।
নোট নিতে এবং টেক্সট হাইলাইট করতে লগইন করুন
লগইন