চণ্ডী লাহিড়ী
পঞ্চাশের দশকে কলকাতায় এসে দেখেছি। কলকাতার সবচেয়ে অভিজাত আড্ডা। ২৪ চৌরঙ্গির আড্ডা। আড্ডায় প্রাণ আমার গুরু আনন্দগোপাল সেনগুপ্ত। অনেক গালাগালি ততোধিক প্রশ্রয় দিয়ে তিনি আমায় তৈরি করেছেন। বিয়াল্লিশের আগস্ট আন্দোলনে জেলে গেছেন। তারপর থেকেই জয়প্রকাশ নারায়ণের ডান হাত। তাঁর ২৪ চৌরঙ্গীর আড্ডায়! কে না আসতেন। জে.পি. ছাড়াও অরুণাদি (তখনো আসফ আলিকে বিয়ে করেননি) আচার্য নরেন্দ্রদেব, জর্জ ফার্নাণ্ডেজ, ইউসুফ মেহেরালি, শান্তিভূষণ। আনন্দার প্রধান গুণ অনর্গল হাসানো। সবই Practical humour.
সোশালিস্ট নেতা জয়প্রকাশ নারায়ণকে নিয়ে বীরভূমের সিউড়ি গিয়েছেন। কাছেই তাঁদের গ্রামের বাড়ি।
সেই জয়প্রকাশ নারায়ণ যাঁকে সারা ভারত জওহরলালের পরবর্তী দেশের কান্ডারী বলে সেসময় ভাবত।
গ্রামের লোক কাতারে কাতারে এসে গ্রামের সভায় জড়ো হয়েছে। তারা দেখল একদল লোক মঞ্চে চেয়ারে বসে। তারা ভাষণ শুনল গ্রাম্য হিন্দিতে। কী বুঝলো কে জানে! এক সময় সভা ভাঙল। যে যার ফিরে গেল। গ্রামের বাড়িতে (নামী কবিরাজ বাড়ি) বসে এক গ্রাম্য চাষিকে আনন্দা বললেন—কী দেখলি? জয়বাবুকে দেখলাম, পেরকাশবাবুকে দেখলাম, নারায়ণবাবুকে দেখলাম।
নোট নিতে এবং টেক্সট হাইলাইট করতে লগইন করুন
লগইন