চণ্ডী লাহিড়ী
শক্ত বাঙালি যে কেরানিগিরি করবে না, মাথা নীচু করবে না, ব্রিটিশ রাজশক্তির পেছনে কুকুরের মতো লেজ নাড়বে না—এরকম বাঙালি দেখলেই ইংরেজরা তাকে ডাকাত বলে চিহ্নিত করত। ডাকাতি অবশ্যই অন্য দেশের মতো বঙ্গদেশেই প্রচুর ঘটত। আর বগি বলে যেসব নরঘাতককে উইলিয়াম শ্লিমান কঠোরভাবে দমন করেছিলেন, তারা ব্রাহ্মণ-কায়স্থ ইত্যাদি।

বিভিন্ন জমিদার নিজেদের জমিদারির নিরাপত্তার জন্য ডাকাত দল গড়ে তুলেছিলেন। অর্থলোভ নয়, নিজেদের বিক্রম প্রদর্শনই ছিল তাঁদের লক্ষ্য।
নদিয়ার নাকাশিপাড়ার জমিদার কেশব সিংহের বিরুদ্ধে অভিযোগ জমা পড়েছিল ম্যাজিস্ট্রেটের কাছে, তিনি নিয়মিত ডাকাতি করছেন। তাঁর গতিবিধির ওপর কড়া নজর রাখার পরও দেখা গেল, তাঁর নামে ডাকাতির অভিযোগ আসছে।
তখন সবে কৃষ্ণনগরে থানা বসেছে। শ্বেতাঙ্গ ম্যাজিস্ট্রেট নাকাশিপাড়ার জমিদার কেশব সিংহকে ডেকে এনে বললেন—‘তোমার ঘোড়া ও তুমি আমার বাংলোর সামনে সারারাত হাজির থাকবে।’
কেশব সিংহ রাজি। তাঁর ঘোড়া ম্যাজিস্ট্রেটের বাংলোর সামনে বাঁধা রইল। কেশব সিংহও সামনের ঘরে শুতে গেলেন। কেশব সিং বিদ্যুৎ গতিতে ঘোড়া ছুটিয়ে বর্ধমানের পাটুলিতে ডাকাতি করে ভোরের আগেই ফিরে এলেন। ম্যাজিস্ট্রেট খবর পেলেন তিনদিন পর কেশববাবু স্বীকার করলেন—আমি পয়সার জন্য ডাকাতি করিনা। মেয়েদের মারলে বা তাদের গা থেকে গহনা কেড়ে নিলে আমার মাথা ঠিক থাকে না। তাই সারা রাত ঘোড়া ছুটিয়ে কাজ সেরে ফিরে এসেছি।
—আদি কৃষ্ণনাগরিক গৌরীশংকর লাহিড়ীর সৌজনে
নোট নিতে এবং টেক্সট হাইলাইট করতে লগইন করুন
লগইন