চণ্ডী লাহিড়ী
স্বামী বিবেকানন্দের ছিল প্রবল আত্মবিশ্বাস আর সেই বিশ্বাস থেকে উদ্ভূত তেজ। একালের ক্ষুদ্র হৃদয়, ক্ষুদ্রবুদ্ধি এবং ক্ষুদ্র দেহের অধিকারী বাঙালির পক্ষে সেই তেজ অনুমান করা সম্ভব নয়।
দক্ষিণ ভারত ভ্রমণকালে স্বামীজিকে ঘিরে ধরেছেন সেখানকার বিখ্যাত শাস্ত্রজ্ঞ পন্ডিতমন্ডলী। অব্রাহ্মণকে বেদপাঠের অধিকার দেওয়ার কথা বলেছেন তিনি। গোঁড়া দক্ষিণী ব্রাহ্মণদের তাতে ঘোরতর আপত্তি। ব্রাহ্মণেরা যুক্তি দেন, অব্রাহ্মণদের ব্রহ্মজ্ঞান থাকতেই পারে না। তারা অশুচি। বিবেকানন্দের জবাব—‘কোনো শাস্ত্রে লেখা নেই কথাটা যে। অব্রাহ্মণরা বেদ উপনিষদ পড়ে পন্ডিত হলে দেশটা রসাতলে যাবে।’
বিবেকানন্দের জবাব— ‘ইউরোপ আমেরিকা রসাতলে যায়নি বরং সেদেশের উন্নতি ঘটেছে।’
দক্ষিণের শাস্ত্রজ্ঞরা কোনোভাবেই বিবেকানন্দের যুক্তি খন্ডন করতে যখন ব্যর্থ হলেন, তখন শেষ অস্ত্র ছাড়লেন স্বয়ং শংকরাচার্য। বললেন—‘অব্রাহ্মণের বেদপাঠের অধিকার নেই।’
বিবেকানন্দ বললেন— ‘আমি বলছি। আছে।’

আচ্ছা, বিবেকানন্দের এই উক্তি কি দম্ভের প্রকাশ? অনেক জল ঘোলা হয়েছে এ নিয়ে। সাধক দিলীপকুমার রায় একটি চিঠি লিখে শ্রী অরবিন্দকে তাঁর মত জানতে চাইলেন। শ্রী অরবিন্দ জানালেন—এটা বিবেকানন্দের অহং নয়। যেটা তিনি আজন্ম বিশ্বাস করেছেন, সেই বিশ্বাস থেকে তিনি সরে আসেননি। এই প্রবল আত্মবিশ্বাসের জন্যই তিনি স্বামী বিবেকানন্দ। সবার শ্রদ্ধেয়।
শঙ্করাচার্য্যের মায়াবাদ বিবেকানন্দ মানেননি। স্কুল, কলেজ, হাসপাতাল গড়ে এই পৃথিবীতে সত্য বলে জেনে মানবসেবাটাই স্বামীজীর দর্শন ছিল।
নোট নিতে এবং টেক্সট হাইলাইট করতে লগইন করুন
লগইন