চণ্ডী লাহিড়ী
দূরদর্শনখ্যাত ডকুমেন্টারি ফিল্মের বহু সম্মানের অধিকারী, আমাদের পারিবারিক বন্ধু অভিজিৎ দাসগুপ্তর ঠিক পাশের বাড়িটা ছিল শচিনকর্তার বাড়ি। গায়ক হিসেবে শচিন দেববর্মন যতই নামী-দামী গায়কই হোন না কেন অভিজিৎরা তাঁকে দেখেছেন প্রতিবেশী কাকা জেঠাদের মত। তাঁদের বাড়ির প্রবীণ-প্রবীণাদের মুখে শচিনকর্তার বহু গল্প মুখে মুখে এখনও বেঁচে আছে।

এক সময় কলকাতার ঢাকুরিয়ার আশেপাশে এবং যাদবপুর অঞ্চলে বহু পুকুর ছিল। বহু পুকুরেই বড়ো বড়ো মাছ ছিল। ফাঁক পেলেই শচিনকর্তা মাছ ধরতে যেতেন। একবার দূরের একটা পুকুরে সারাদিন বসেও মাছ পেলেন না। হতাশ হয়ে বাড়ি ফেরার আগে গড়িয়াহাট বাজারে গেলেন। কিনলেন এক পাকা রুই। সেখানে অনেকেই তাঁকে পাকা রুই কিনতে দেখে অবাক। হাতে ছিপ, ঝুলিতে পাকা রুই (অবশ্যই বেশ একটু বৃহদাকার) নিয়ে শচিনকর্তা বাড়ি ফিরলেন। যেভাবেই হোক ব্যাপারটা নিকট প্রতিবেশীদের চোখে পড়েছে।
পুকুরে কত কষ্ট করে যে বড়ো রুই ধরলেন সেই গপ্পোটা হাত-পা নেড়ে বলতে যাবেন, পেছনে তাকিয়ে দেখেন রানা। অভিজিতের ডাকনাম। এবাড়ির গিন্নি ওবাড়ির গিন্নিকে বললেন শচিনকর্তাকে চুপ করতে বলুন। রানা সবই দেখে ফেলেছে। —ওটা তো গড়িয়াহাট বাজারের মাছ! ফুটন্ত ভাতের হাঁড়িতে যেন জল পড়ল। —শচিনকর্তা চুপসে গেলেন। বাংলার ঢোল আর আওয়াজ ছাড়ল না।
নোট নিতে এবং টেক্সট হাইলাইট করতে লগইন করুন
লগইন