চণ্ডী লাহিড়ী
গ্রামে গন্ধগোকুলকে বলা হয় ভাম। ইংরেজিতে Civet cat. রাতে এদের চলাফেরা—এদের গায়ের গন্ধই জানিয়ে দেয় এদের আগমনবার্তা। পাকা ফল, পাখির সদ্যোজাত ছানা বা ইঁদুর ধরেই এদের আহারাদি চলে। কিন্তু কেউ এদের পছন্দ করে না। ভাম দেখলেই লাঠি আর ঝাঁটা নিয়ে সবাই এদের তাড়া করে। অথচ দক্ষিণ ভারতে তিরুপতি মন্দিরের পূজারিদের কাছে জঙ্গলের প্রাণী ফলাহারী এই গন্ধগোকুলের খুব আদর।
এই গন্ধগোকুলের প্রস্রাব এবং দেহ থেকে নি:সৃত ঘামজল ইত্যাদি রোজই সংগ্রহ করে সেটা তেলে মিশিয়ে প্রতি শুক্রবারে তিরুমলের আরাধ্য দেবতা বালাজিকে স্নান করাতে হয়। স্নানকে অবশ্য অভিষেক বলা হয়।

গন্ধগোকুলের স্বভাব হল, মাঝে মাঝেই তারা অন্ডকোষ পাথরে ঘষে। তার থেকে বের হয় এক ধরনের রস। কোনোমতেই এটি প্রস্রাব নয়। পুরোহিতদের দীর্ঘদিন লালিত ধারণা, গন্ধটি যে কেবল পবিত্র তাই নয়— এই সুগন্ধ খোদ দেবতাকেই কুদৃষ্টি থেকে রক্ষা করে।
নতুন পশুপক্ষী রক্ষা আইনে গন্ধগোকুল পোষা নিষেধ। সংক্রামক রোগের জন্য আফ্রিকায় কয়েক হাজার গন্ধগোকুল আগেই মেরে ফেলা হয়েছে। বালাজি-মন্দিরের ট্রাস্টিরা সেজন্য এশিয়ার বিভিন্ন দেশ থেকে নারী-পুরুষ গন্ধগোকুল সংগ্রহ করে এখন নিজেরাই তাদের রক্ষণাবেক্ষণ করছেন। তদবির করার জন্য মোটা বেতনে চিড়িয়াখানায় ট্রেনিংপ্রাপ্ত কর্মীরা আছেন।
নোট নিতে এবং টেক্সট হাইলাইট করতে লগইন করুন
লগইন