চণ্ডী লাহিড়ী
নেপোলিয়নকে নিয়ে অনেক কিছু লেখা হয়েছে। যোদ্ধা নেপোলিয়ন আক্রমণকারী নেপোলিয়ন, আর্কিটেক্ট নেপোলিয়ন, পুরাতত্ত্বের আদিপুরুষ নেপোলিয়ন—এসব নিয়ে বহু লেখা চোখে পড়েছে কিন্তু প্রেমিক নেপোলিয়ন নিয়ে লেখা বড়ো একটা চোখে পড়েনি।
নেপোলিয়ন যখন যোসেফিনার প্রতি আকৃষ্ট হন তখন ভদ্রমহিলার আকাশে অনেক নক্ষত্র। ফ্রান্সের অভিজাত মহলের বহু ধনী পুরুষ তাঁর প্রণয়প্রার্থী। নেপোলিয়ন খুব সাধারণ এক সৈনিক—সামান্য তাঁর বেতন, চেহারাতেও তাঁর কোনো আকর্ষণ নেই। জোসেফিনা তাঁকে তেমন প্রশ্রয় দেননি। কিন্তু নেপোলিয়ন লেগেছিলেন। জোসেফিনার প্রতি তাঁর মোহ প্রবল। যুদ্ধক্ষেত্রে থেকে প্রতিদিন লেখেন প্রেমপত্র। জোসেফিনা আকুল আগ্রহ নিয়ে সেই প্রেমপত্র পড়েন এবং একটু একটু করে আকর্ষণ বাড়তে থাকে। কিন্তু কোনো চিঠির উত্তর দিতেন না। জোসেফিনার প্রথম স্বামী মারা যান ফরাসি বিপ্লব যখন তুঙ্গে, গিলোটিনে। স্ত্রীর জন্য রেখে যান বিপুল বৈভব। জোসেফিনার আদি নাম রোজ। গোলাপ ভালোবাসতেন বলে রোজ নামটি নেপোলিয়ন দিয়েছিলেন। সম্রাটের উদ্যোগেই ফ্রান্সের শ্রেষ্ঠ গোলাপ বাগানটি রোজের প্রাসাদের সামনেই তৈরি করেছিলেন। প্রাসাদটির নাম ম্যালমেজঁ। রোজের জীবন ছিল সৌখিন, খুবই রুচিশীল, ব্যবহার পরিশীলিত। এই উন্নত রুচিই নেপোলিয়নকে আকর্ষণ করত বেশি। রোজের অঙ্গুলি হেলনেই নির্ভর করত নেপোলিয়ন কোন যুদ্ধে কতটা নৃশংস হবেন। প্রতিটি যুদ্ধজয়ের শেষে রোজের জন্য আসত উপহার।
নোট নিতে এবং টেক্সট হাইলাইট করতে লগইন করুন
লগইন