চণ্ডী লাহিড়ী
বিশ শতকের বিশ ও ত্রিশ দশকে ম্যালেরিয়া গ্রাম বাংলার স্বাস্থ্য ও সাহসকে বিপন্ন করে তোলে। যেসব গ্রাম বা শহরে ম্যালেরিয়া প্রবেশ করেনি সেখানে সম্পন্ন পরিবারে ৬ ফিট লম্বা বাঙালি প্রচুর দেখা যেত। এদের দৈহিক স্বাস্থ্যের সঙ্গে তুলনীয় সাহসও ছিল প্রচুর। কর্ণওয়ালিশের দৌলতে বহু বঙ্গীয় জমিদার জমিদারি রক্ষার জন্যও পালোয়ানিকে উৎসাহ দিতেন এবং নিজেরাও পালোয়ান রেখে কুস্তি, লাঠি ও অসি খেলা শিখতেন। ছেলেবেলায় যে গ্রামে আমার শৈশব কেটেছে, সেখানে তরুণ যুবকদের মধ্যে লাঠিখেলা ও নানা দৈহিক কসরত রপ্ত করার কায়দা শেখার ব্যবস্থা ছিল। আমি নিজেও এজাহারের কাছে লাঠি খেলার প্রাথমিক শিক্ষালাভ করেছি।
শান্তিপুরে আশানন্দ ঢেঁকির নামে রাস্তা আছে। প্রতিমূর্তিও আছে।

বাড়িতে ডাকাত পড়ায় আশানন্দ হাতের কাছে আর কিছু না পাওয়ায় ঢেঁকি নিয়ে ডাকাতদের তাড়া করেন এবং ডাকাতরা রণে ভঙ্গ দেয়। কৃষ্ণনগরের মহারাজা তাঁকে বীর আশানন্দ বলে সম্মানিত করেন।
একালে অবিশ্বাস্য মনে হলেও, রায়বেশে নাচ যাঁরা দেখেননি তাঁরা আশানন্দের গল্প শুনে অবাক হবেন।
আমি অন্তত দুবার রায়বেশে নাচ দেখেছি একেবারে তাদের পড়ন্ত বেলায়। রায়বেশে পেশা ছেড়ে দিয়ে তারা চাষাবাদে ব্রতী। তবু গোয়ালঘর থেকে গোরুর চাকা খুলে নিয়ে বের করে যখন ঘোরাতে লাগল মনে হল সুদর্শন চক্র নিয়ে কৃষ্ণ নিজে যুদ্ধক্ষেত্রে নেমেছেন। ইঁট ছুড়ে আমরা মারলাম। ঘূর্ণায়মান গোরুর গাড়ির চাকায় ইট লেগে ভেঙে গেল। মনে হয় ব্রতচারীর জনক গুরুসদয় দত্ত রায়বেশে শিল্পীদের ভরন্ত বেলায় তাদের বীরক্রীড়া দেখে থাকবেন। সেজন্য ব্রতচারীদের রণপা ও রায়বেশে নাচ শিখতে উৎসাহ দিতেন।
নোট নিতে এবং টেক্সট হাইলাইট করতে লগইন করুন
লগইন