চণ্ডী লাহিড়ী
প্রথম কাব্য লিখেই ওয়াল্ট হুইটম্যান ইংরেজি পাঠক মহলে সাড়া জাগিয়েছিলেন। কে এই হুইটম্যান? বয়স তখন মাত্র সাতাশ। মার্কিন কবি হলেও ব্রিটেনের পাঠক মহলে অদম্য কৌতূহল। তাঁর প্রকাশক দ্বিতীয় বই ছাপছেন বলে ঘোষণা করে দিয়েছেন। কবে সেই দ্বিতীয় কবিতা সংগ্রহ প্রকাশিত হবে সেটাও ঘোষিত হয়ে গেছে। কিন্তু, প্রকাশক আবিষ্কার করলেন কবি বইটির কোন নাম দেননি। ছুটলেন বহু দূরে কবির কাছে। কবি বললেন, আমায় কাল সারাদিন ভাবতে দাও। পরশু দিন এসো।

কবি সারাদিন ভাবলেন। রাত্রিটাও ভেবে ভেবে কাটালেন বইটির নাম কি হবে? প্রকাশক এলেন। কবি বললেন, আর একটি দিন সময় দাও। বহু নাম মাথায় এসেছে। একটাও পছন্দ হয়নি।
তারপর, সারা রাত ঘুম নেই। কবিতার বই এর নাম কী হবে?
বাইরে ভোরবেলা পথের ওপারে পার্কে চোখ গেল। দুটি শিশু ভাই আর বোন, খেলা করছে। ভাইটি কেবল ঘাস ছিঁড়ছে সাজাচ্ছে, পরপর ঘাস রেখে। সেই ঘাস একটির পর একটি সাজিয়ে সেবাড়ি বানাচ্ছে, পাহাড় বানাচ্ছে, বাড়িঘর বানাচ্ছে। তার দিদির ব্যাপারটি পছন্দ হল না। সেভাইকে নিষেধ করল ঘাস ছিঁড়তে। দিদি ভাইকে ঠাস করে চড় মারল। কী ছিঁড়ছিস? হাত নোংরা হচ্ছে। সামান্য ঘাস ছিঁড়ে হাত নোংরা করা ছোট দিদিটির পছন্দ নয়। ভাই উত্তর দিল— Leaves of grass. সামান্য ঘাস নয়। পায়ের পাতায় দলিত হয় যে ঘাস আমার এটা সেঘাস নয়। এটা পাতা— পায়ে দলে দলে যাওয়া যায় না।
হুইটম্যানের মনে হল—এই তো পেয়ে গেছি—শিশুর মুখ দিয়ে উচ্চারিত একটি কথা— Leaves of grass. ব্যস, এই নামেই বই হোক।
নোট নিতে এবং টেক্সট হাইলাইট করতে লগইন করুন
লগইন