চণ্ডী লাহিড়ী
ইংলণ্ডে বসবাসকালে মনিন্দর পাল সিং কোহলি নামক এক ভারতীয় যুবক খুন করেছিল হানা ফস্টার (Hannah Foster) নামক এক কিশোরীকে। ব্রিটিশ পুলিশ অনেক চেষ্টা করেও অপরাধীকে ধরতে পারেনি। মনিন্দর ভারতে পালিয়ে আসে এবং ২০০৩ সালের মার্চ মাসে নানাস্থানে আত্মগোপন করে। মনিন্দরকে গ্রেপ্তার করতে সাহায্য করলে যথোচিত পুরস্কার দেওয়া হবে ঘোষণা করেন মেয়েটির বাবা-মা। তাঁরা এক সময় খবর পান দার্জিলিং-এর কাছাকাছি কোনো চা-বাগানে মনিন্দর লুকিয়ে আছেন। কোথায়? কেউ বলতে পারছে না। স্বয়ং এভারেস্টজয়ী এডমণ্ড হিলারি এবার এগিয়ে এলেন। হিমালয় পাহাড় এবং পাহাড়ী মানুষদের তিনি চেনেন। শেষপর্যন্ত মনিন্দরকে ধরে ফেলেন পাহাড়ি লেপচা। দুতেরিয়া চা বাগানে (Dooteriah Tea Gardens) গোপদাঁড়ি কমিয়ে মনিন্দর সেখানে ছিলেন।

যাই হোক মনিন্দরকে ধরে দেওয়ার পুরস্কার হিসেবে গরিব জেসন লেপচাকে হানার বাবা মিস্টার ট্রেভর ৩ লাখ ৬৭ হাজার টাকা দিলেন।
মি. ট্রেভর তিন বছর পর জেসন লেপচা কেমন আছেন জানতে দার্জিলিং-এর সেই চা-বাগানে গেলেন। অবাক হয়ে তিনি দেখলেন, গরিব জেসন সেই টাকায় একটি স্কুল করেছে হানার নামে। কারণ হানার স্বপ্ন ছিল বড়ো হয়ে সেশিক্ষয়িত্রী হবে, বড়ো স্কুল চালাবে।
লেপচা উপহারের টাকা দিয়ে নিজের বাড়ি সারায়নি। উলটে নিজেদের যেটুকু জমি ছিল, সেটাও স্কুলকে দান করেছে। মি. ট্রেভর আরও অর্থসাহায্যের প্রতিশ্রুতি দিলেন।
নোট নিতে এবং টেক্সট হাইলাইট করতে লগইন করুন
লগইন