চণ্ডী লাহিড়ী
হাইকোর্টের বিখ্যাত উকিল ছিলেন শ্রীনাথ দাস। মেডিকেল কলেজের উলটোদিকে এখন একটি ছোটো গলি তাঁর নামে টিকে থাকলেও একসময় ওই গলির দু-পাশের অধিকাংশ বাড়ির মালিকানা ছিল শ্রীনাথ বাবুদের। শ্রীনাথ দাস বিদ্যাসাগরের যেমন বন্ধু, মাইকেল মধুসূদনের সঙ্গেও তাঁর মধুর সম্পর্ক ছিল।
কিন্তু প্রচুর সদগুণের অধিকারী হওয়া সত্ত্বেও চারিত্রিক দোষের কারণে তিনি পুত্র উপেন্দ্রনাথ দাসকে ত্যাগ করেন। প্রতিজ্ঞা করেন, ইহজীবনে আর ছেলের মুখ দেখবেন না। অনেকে বাবা ও ছেলের বিরোধ মেটাবার চেষ্টা করে হাল ছেড়ে দেন। উপেন্দ্রনাথের বিরুদ্ধে অভিযোগ সেনাটকের জগতে প্রবেশ করে অধঃপাতে গিয়েছে।
সেই পুত্র উপেন্দ্রনাথ কঠিন রোগশয্যায় শায়িত। শিবনাথ শাস্ত্রী সরাসরি বিদ্যাসাগর মশাইকে অনুরোধ করলেন, আপনার অনুরোধ শ্রীনাথ ফেলতে পারবে না। বাপ ও ছেলের মনোমালিন্য দূর করুন।
বিদ্যাসাগর মশাই একদিন শ্রীনাথবাবুর বাড়ি গিয়ে বললেন—গাড়ি যুততে বলো। তোমায় নিয়ে এক জায়গায় বেড়াতে যাব। শ্রীনাথ গাড়ি বের করলেন। তাঁর গাড়িতে চেপে বিদ্যাসাগর মশাই ও শ্রীনাথবাবু কিছুদূর যাবার পর শ্রীনাথ বললেন—আমায় কোথায় নিয়ে যাবে।
বিদ্যাসাগর মশাই সত্য কথাটা বললেন—তোমার পুত্র উপেন্দ্র মৃত্যুশয্যায়। নিজের বাপকে একবার দেখতে চায়। তোমায় যেতেই হবে।
শ্রীনাথবাবু রাগে ফেটে পড়লেন। নেমে এলেন গাড়ি থেকে। যাবেন না। বিদ্যাসাগর শান্তভাবে তাঁকে বোঝালেন—তুমি যদি আমার অনুরোধ না রাখো, আমি আর কোনোদিন তোমার বাড়ি যাব না। এখানে আজই আমাদের ছাড়াছাড়ি হয়ে যাবে।
শ্রীনাথ একবার কি যেন ভাবলেন। পরক্ষণেই বিদ্যাসাগরকে নিয়ে গাড়ি চেপে পুত্রের ঠিকানায় রওনা হলেন।
নোট নিতে এবং টেক্সট হাইলাইট করতে লগইন করুন
লগইন