চণ্ডী লাহিড়ী
‘বৃদ্ধস্য তরুণী ভার্যা’ কথাটি রসিকতার ছলে বলা হয়। বিদেশী সাহিত্য ও সাহিত্যিকদের ক্ষেত্রে দেখা যাচ্ছে ‘বৃদ্ধাস্যা তরুণ বর’ যেখানে ঘটেছে সেখানে দাম্পত্য দীর্ঘস্থায়ী হয়েছে। ধরা যাক, সেকসপিয়র। বউ আনা হ্যাথাওয়ের চেয়ে অনেক বড়ো ছিলেন স্বামী উইলিয়ম সেকসপিয়র। ঠাটা করে বলা হত ANN Hatha way. অ্যান ছিলেন নাট্যকারের চেয়ে সাত বছরের ছোট। ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী ডিসরেলি বলতেন তাঁর স্ত্রী উইণ্ডহ্যাম লুই মেরি অ্যান তাঁর চেয়ে ১২ বছরের বড়ো হওয়ায় যেভাবে সংসার চালাতেন, রানি ভিক্টোরিয়ার সঙ্গে তেমনভাবেই ব্যবহার করতেন। রানিও তো তাঁর চেয়ে বয়সে বড়ো।

বিখ্যাত নর্তকী ইসাডোরা তাঁর চেয়ে বয়সে ১৭ বছরের ছোটো স্বামীকে নিয়ে যতদিন সংসার করেছেন, কোনো অশান্তি হয়নি। দুর্ঘটনা ঘটল যখন তিনি বয়স্ক একজনের প্রেমে পড়লেন। ইসাডোরা আত্মহত্যা করেছিলেন। এলিজাবেথ ব্যারেটো ব্রাউনিংয়ের চেয়ে ১২ বছরের ছোটো। কবি ব্রাউনিং Drink to me only with the eyes-এর মতো সুন্দর কবিতা তো তিনিই লিখতে পেরেছিলেন। এর কারণ হিসাবে বলা হয় বয়স্কা স্ত্রীদের মায়েরা হন খুব বুড়ো। জামাইয়ের সংসারে নাক গলাতে চান না তাঁরা।
বঙ্কিমচন্দ্র, তাঁর চেয়ে ১৩ বছরের বড়ো জগদীশচন্দ্র রায়কে বিষবৃক্ষ উৎসর্গ করেন। বিষবৃক্ষ সেকালের সমালোচকদের মতে একটি অতি অশ্লীল উপন্য্যাস। সাহিত্য-সম্পাদক সুরেশ সমাজপতি লিখেছিলেন— বয়োজ্যেষ্ঠ একটি মানুষ হাতে একটি অশ্লীল উপন্যাস উপহার দেওয়া তাঁর উচিত হয়নি।
‘প্রচারে’ বঙ্কিম লিখলেন— ‘শ্রীকৃষ্ণ মিথ্যা বলিলে তাহা সত্য হইয়া দাঁড়ায়। কোন পরিস্থিতিতে শ্রীকৃষ্ণ মিথ্যা বলিয়াছেন সেই পরিস্থিতিটাই বিচার্য।’
রবীন্দ্রনাথ প্রতিবাদ করলেন—মিথ্যা সর্বদাই মিথ্যা। শ্রীকৃষ্ণ বলিলেও মিথ্যা, বঙ্কিমবাবু বলিলেও মিথ্যা। লিখলেন তত্ত্ববোধিনী-তে।
রবীন্দ্রনাথ নিজ নাম দেননি। কেবল ‘র’ অক্ষরটি লিখেছিলেন। বঙ্কিম স্বভাবত এতে চটলেন। তিনি সম্মুখ সমরে নামলেন না বটে, কিন্তু লিখলেন— ‘কে এই ‘র’ তাহা আমি জানি। কিন্তু বলিলাম না। প্রতিবাদ হইলে বলিব।’
নোট নিতে এবং টেক্সট হাইলাইট করতে লগইন করুন
লগইন