চণ্ডী লাহিড়ী
ইংরেজদের তখন দারুণ দুঃসময়। হুগলির ফৌজদার ইংরেজদের শিক্ষা দেবার জন্য কলকাতা আসছেন। তার আগেই নোটিশ জারি হয়েছে, দেশীয় কোনো মানুষ যেন ইংরেজদের সঙ্গে কোনো সহযোগিতা না করে।
ইংরেজদের সমূহ বিপদ। জানবাজারের রানি রাসমনির শ্বশুর রামচন্দ্র মাঢ় বাঁশের ব্যাবসা করতেন। বাজার, আটচালা, ঘরবাড়ি বানানোর জন্য সেকালের কলকাতায় বাঁশের চাহিদা ছিল খুব।
ইংরেজরা ঠিক করলেন কলকাতা ছেড়ে ফলতায় পালাবেন। নৌকা জোগাড় হল। কিন্তু মাঝি কোথায়? হুগলির ফৌজদারের হুকুম। ইংরেজ ড্রেকের সঙ্গে কেউ সহযোগিতা করবেনা। ড্রেক এসে ধরলেন রামচন্দ্র মাঢ়কে। রামচন্দ্র বললেন, আমি নৌকা চালাবার জন্য যত লগি লাগবে জোগান দেব। বাঁশ জোগাব। দাম দিতে হবে না। আমার বাঁশ দিয়ে লগি ঠেলে তোমরা পালাও।

ড্রেক পালালেন তাঁর বাহিনী নিয়ে। পরে ইংরেজরা জয়ী হয়ে রামচন্দ্র মাঢ়কে জমিদারি মঞ্জুর তো করলেনই, গঙ্গার আধখানা অধিকারও তাঁকে দিলেন।
নোট নিতে এবং টেক্সট হাইলাইট করতে লগইন করুন
লগইন