চণ্ডী লাহিড়ী
প্রথম থেকেই লণ্ডনস্থ ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির নজর ছিল নিজস্ব স্বর্ণ ও রৌপ্যমুদ্রা নির্মাণ করা। জগৎশেঠরা বিভিন্ন সময়ে রাজা মহারাজা ও নবাবদের যেসব মুদ্রা সরবরাহ করতেন সেইসব মুদ্রার ওজনে প্রচুর ভেজাল ছিল। প্রধানত স্বর্ণমুদ্রার ক্ষেত্রে।
১৭৬৫ সালের ২৪ ডিসেম্বরের নির্দেশনামায় টাকশাল তৈরির প্রস্তাব অনুমোদন করা হয়। টাকশাল করার মূলে একটি বিশেষ মতলব কাজ করেছিল। দু-রকম টাকা চালু ছিল। সুন্নতি (Sunnauti) এবং সিক্কা (সিককা) সুন্নতি আকৃতিতে ছোটো কিন্তু বেশ ভারি, সিক্কা টাকার ওজন কম কিন্তু আকারে বড়ো। নিজেদের টাকশাল থাকলে সুন্নতি মুদ্রা গলিয়ে সিক্কা টাকা বানালে প্রচুর লাভ হবে।
...In the meanting, we must suppose it is, for since the differenced in value between Sunnauts and Sikkas is as we understand generally, greater than that, all Sunnanths which come to our treasury and if our revenues be paid cheaply in that specie, the sum must be considerable, should be recoined and issued as Sikkas. The profit arising on the Sunnants you recoin and on some other articles is, we remark in your treasury books carried every month to profit loss which is an improper entry.
স্মরণীয় যে, ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি যে সব টাকা (মুদ্রা) দেশে নিয়ে যেতেন তার জন্য তৈরি বিশেষ ধরনের সিন্দুকও সেদেশ থেকেই আসত। জাহাজ ডুবির ও শত্রুপক্ষের দ্বারা আক্রান্ত হবার সম্ভাবনা থাকায় নিজেদের সিন্দুক নিজেরাই তৈরি করে আনতেন ও জাহাজের খোলে ভরে নিয়ে যেতেন। লাভের কড়ি কোনো অবস্থাতেই রাজকোশে (রাজা বা রানি) জমা পড়ত না। কোন মুদ্রায় কতটা খাদ দেওয়া হবে সেটা সব দেশের মতো ব্রিটেনও গোপন রাখত। ডা. প্রফুল্ল চন্দ্র ঘোষ (প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী) প্রথম Assey Master (কোন মুদ্রায় কতটা সোনা আর কতটা খাদ থাকবে সেটা তিনি সোনা পরীক্ষা করে বলে দেন) যিনি ইংরেজ আমলে এই গুরুত্বপূর্ণ চাকরি পেয়েছিলেন।
নোট নিতে এবং টেক্সট হাইলাইট করতে লগইন করুন
লগইন