চণ্ডী লাহিড়ী
‘‘আর্ট সোসাইটির এক পার্টি হবে জাস্টিস উডরফের বাড়িতে। লোকমারফত সিস্টার নিবেদিতাকেও নিমন্ত্রণের চিঠি পাঠালাম। সন্ধ্যায় শুরু হয়ে গেল পার্টি। একটু দেরি করেই এসেছিলেন তিনি। বড়ো বড়ো রাজারাজড়া, সাহেব-মেম গিজগিজ করছে। সবই অভিজাত বংশের বড়ো ঘরের মেম। কত তাদের সাজসজ্জার বাহার। চুল বাঁধবারই কত কায়দা। নামকরা অনেক সুন্দরী সেখানে। তাদের সৌন্দর্যে, ফ্যাশনে চারধার ঝলমল করছে। হাসি-গান বাজনায় মাত। সন্ধে হয়ে এল—এমন সময় নিবেদিতা এলেন।

সেই সাদা সাজ, গলায় রুদ্রাক্ষের মালা, মাথার চুল ঠিক সোনালি নয়, সোনালি-রুপোলিতে মেশানো। উঁচু করে বাঁধা। তিনি যখন এসে দাঁড়ালেন সেখানে, কী বলব, যেন নক্ষত্রমন্ডলীর মধ্যে চন্দ্রোদয় হল। সুন্দরী মেয়েরা তাঁর কাছে যেন একনিমেষে প্রভাহীন হয়ে গেল। সাহেবরা কানাকানি করতে লাগল।
উডরফ ব্লাস্ট এসে বললেন—কে এ? তাঁদের সঙ্গে নিবেদিতার আলাপ করিয়ে দিলুম।
সুন্দরী, সুন্দরী কাকে তোমরা বল জানিনে। আমার কাছে সুন্দরীর সেই একটা আদর্শ হয়ে আছে। কাদম্বরীর মহাশ্বেতার বর্ণনা—সেই চন্দ্রমণি দিয়ে গড়া মূর্তি, যেন মূর্তিমতী হয়ে রইল।’’
—অবনীন্দ্রনাথ ঠাকুর
নোট নিতে এবং টেক্সট হাইলাইট করতে লগইন করুন
লগইন