চণ্ডী লাহিড়ী
এপর্যন্ত মাত্র দুজন রুশ-সাহিত্যিক নোবেল পুরস্কার পেয়েছেন। প্রথমে পেয়েছেন বোরিস পাস্তেরন্যাক—তাঁর ‘ডা. জিভাগো’ উপন্যাসের জন্য। ডা. জিভাগোতে রুশ রাষ্ট্রব্যবস্থার কিছু নিন্দা ছিল। রুশ-কমিউনিস্ট সরকার সেই সমালোচনা সহ্য করতে পারেন নি। পাস্তেরন্যাককে রুশ সরকার প্রথম থেকেই পছন্দ করতেন না। রুশ লেখক-সঙঘ থেকে তাঁকে আগেই তাড়িয়ে দেওয়া হয়। কমিউনিস্ট দেশে প্রকাশনা কঠোরভাবে রাষ্ট্র নিয়ন্ত্রিত। সেজন্য পাস্তেরন্যাক ঝুঁকি নিয়ে তাঁর বইয়ের পান্ডুলিপি রোমে গোপনে পাঠিয়ে দেন। রোমের এক প্রকাশকের পান্ডুলিপি পছন্দ হয়। বইটি ছাপা হয় এবং নোবেল পুরস্কার লাভ করে।

লেখককে নোবেল পুরস্কার নিতে দেওয়া হয়নি। পাস্তেরন্যাককে রুশ সরকার জানিয়ে দেন, একবার বিদেশে গেলে আর স্বদেশে ফেরা চলবে না। পাস্তেরন্যাকের ওপর এরপর মানসিক নির্যাতন শুরু হয়। বই লেখার অপরাধে তাঁকে বাসস্থান ছেড়ে চলে যেতে হয়। শুরু হয় লেখকের আহার বিহার সবকিছুর ওপর কড়া নজরদারি। এই অত্যাচার সহ্য করতে না পেরে পাস্তেরন্যাক মারা যান। তাঁর স্ত্রী স্বামীর মৃত্যুর পর নোবেলের টাকা পান তাও সহজপথে নয়। তাঁকে দেশ ছাড়তে হয়েছিল।
নোট নিতে এবং টেক্সট হাইলাইট করতে লগইন করুন
লগইন