চণ্ডী লাহিড়ী
এই সেদিনও কলকাতার নামী ইংরেজি কাগজে মেরিলিন মনরো (Marilyn Monroe) সম্পর্কে লেখা হয়েছে বিশ্বের সেরা লাস্যময়ী ও সেকসি গার্ল। বেঁচে থাকতেই তিনি চারিত্রিক বদনামের জন্য আত্মহত্যা করেছিলেন। কলকাতার কাগজে এই লেখা পড়লে নিশ্চয়ই ভাবতেন ভালই করেছিলাম। আগেই আত্মহত্যা করো। সেই অজানা সাংবাদিকাকে একটি প্রকৃত ঘটনা শুনিয়ে রাখি।

Death of a Salesman-এর বিপুল খ্যাতি অর্জনের পর নাট্যকার আর্থার মিলার (Arthur Miller) নতুন আর একটি নাটক লিখলেন। তারপর এজেন্টকে বললেন—যাও, আমার নাম করে পাড়ার একটা হোটেলে একটা ঘর বুক করে এসো। পরের ছবির রিহার্সাল হবে।
নাটকের রিহার্সাল শুনেই হোটেলওয়ালা তাকে ঘাড় ধাক্কা দিয়ে বের করে দিল। দুবার এজেন্ট গেল, দুবারই অপমানিত হল। এবার মিলার পাঠালেন তাঁর নিজের সেক্রেটারী লিরিলকে। তিনিও হতাশা হয়ে ফিরে এলেন। বললেন, হোটেলওয়ালা নাট্যকারের নামই শোনেনি।
গেট আউট!
মেরিলিন ছিলেন প্রবল মিলার ভক্ত। নাটকের রিহার্সালের জন্য ঘর পাচ্ছেন না শুনে নিজেই গেলেন। হোটেলওয়ালা দরজা খুলেই যা দেখলেন তাতে হার্টফেল করার জোগার। রোজ যাকে সিনেমায় দেখেন সেই মেরিলিন মনরো তাঁর হোটেলে সশরীরে!
—ঘর নিশ্চয়ই পাবেন। যতদিন খুশি এখনই লিখে দিচ্ছি। কটা ঘর চান?
হোটেলওয়ালা নাট্যকারের নাম শোনেনি। নাটকের রিহার্সাল হয় শুনলে অভিজাত খরিদ্দাররা আসবেনা। ভাববে কলগার্লরা এখানে দেহব্যবসা করে। নাটকের জন্য মিলার হোটেলে ঘর পাচ্ছে না। স্বামীর জন্য এই দুর্নাম অর্জন করতে তিনি রাজী হয়েছিলেন। এই স্বামীদরদের ঘটনাটি লেখাও হয় না, পড়ানো ও হয়না।
মেরিলিন জন্মেছিলেন বস্তিতে। খুব গরীব ঘরে। সেজন্য নানাধরনের Complex-এ ভুগতেন। আর্থার মিলার ঠিক করেছিলেন এই মেয়েটির Complex তিনি দূর করবেন। সেই কৃতজ্ঞতাবোধ মেরিলিনের আমৃত্যু ছিল। সেই প্রতিজ্ঞা রাখতে ১৯৫৬-তে তাঁকে মিলার বিয়ে করে ফেলেন। ডাকনাম নর্মি এনো পাল্টে করেন মেরিলিন মনরো।
সর্বদাই প্রচুর পড়াশোনা করতেন। সেরা বইগুলো স্বামীকে না জানিয়েই কিনে ফেলতেন। বলে বেড়াতেন, আমি স্বামীর নখের যুগ্যি নই। তাঁর পড়াশোনায় ধারেকাছেও কোনোদিন আসতে পারবো না।
মেয়েদের রূপ-যৌবন নিয়ে ব্যবসা করার পত্রিকা Play Boy-এর মলাটে তাঁর ছবি (1952) ছাপা হওয়ায় রেগে আগুন হয়ে যান।
শেষ ফিল্ম করেছিলেন Misfit. সমালোচকদের মতে, স্বামীর সঙ্গে একত্রে অভিনীত এই Misfit তাঁর সর্বশ্রেষ্ঠ ছবি। কলকাতার এলিট হলে মনরোর ‘নায়াগ্রা’ দেখতে এই অধম সাংবাদিকও ভীড় জমিয়েছিলেন। বেআব্রু শরীর দেখতে লোকের ভীড়ের কথা এখনো মনে আছে। মেরিলিন তখন এভারেস্টতুল্য খ্যাতিমান। সেই খ্যাতি ভাঙ্গার জন্য প্রডিউসারদের মধ্যে চেষ্টার অন্ত ছিলনা। তিনি ক্লার্ক গেবল কেরি গ্র্যান্ট ইত্যাদি অতিখ্যাত অভিনেতাদের সঙ্গেও অভিনয় করেছিলেন। কিন্তু বিবেকহীন সাংবাদিকরা এঁদের সঙ্গে জড়িয়ে কুৎসা চালিয়ে যেতে থাকেন। মেরিলিন খুবই অসহায়। স্বামীপ্রীতির কোনো প্রমাণ থাকেনা। অভিনেত্রীর পরকীয়ার প্রমাণ তো সিনেমা। লোকে পরকীয়া দেখতে ভালবাসে। গীতাপাঠ বা সাধুসঙ্গের ছবি তো পকেটের টাকা ব্যয় করে ব্যবসায়ীরা তুলবেনা। অতএব অভিনেত্রী সৎ থাকবার চেষ্টা করলেও ইনডাস্ট্রি তাকে সৎ থাকতে দেবেনা। তার প্রমাণ তো এই রাজ্যেও কয়েক ডজন।
নোট নিতে এবং টেক্সট হাইলাইট করতে লগইন করুন
লগইন