চণ্ডী লাহিড়ী

আলাউদ্দিন খাঁ তখন মাইহারে। মাইহার ব্যাণ্ড তখন ভারতজোড়া খ্যাতির অধিকারী। একটি ব্রিটিশ ব্যাণ্ড সেসময় নানাধরনের বিদেশি বাদ্যযন্ত্র দিয়ে মাইহার গেছেন। মাইহারের রাজার গানবাজনার জগতে তখন পৃষ্ঠপোষক হিসেবে খ্যাতি খুব। আলাউদ্দিন সেসব আধুনিক এসব বাদ্যযন্ত্র কোনোদিন দেখেননি। গ্রামের মানুষ। এক ব্রিটিশ বাদ্যকর সাকসোফোন বাজালেন। খাঁ সাহেব ঠাণ্ডা মাথায় শুনলেন এবং দেখলেন। মহারাজা সবার সামনে খাঁ সাহেবকে প্রশ্ন করলেন, পারবেন? ওই যন্ত্রটি কী বাজাতে পারবেন? খাঁ সাহেব যন্ত্রটি চেয়ে নিলেন। মিনিটখানেক নাড়াচাড়ার পর স্যাকসোফোন সবাইকে বাজিয়ে শুনিয়ে দিলেন। শ্রোতারা অবাক। মাইহারের সম্মান বাঁচলো। ব্রিটিশ বাদ্যকরদলও অবাক! এই অকপট গ্রাম্য প্রতিভাটি এর আগে সাকসোফোন চোখেও দেখেননি। বঙ্কিমচন্দ্রের কথাটি স্মরণীয়— প্রতিভা যাহাকে স্পর্শ করে তাহাকেই সজীব করিয়া তোলে।
নোট নিতে এবং টেক্সট হাইলাইট করতে লগইন করুন
লগইন