চণ্ডী লাহিড়ী
বিজ্ঞানী হিসেবে খুব বড়ো হলেও ব্যক্তিগত জীবনে আইনস্টাইন খ্যাপাটে ছিলেন। তাঁর নাতি বার্নার্ড সিজার আইনস্টাইন ৭৫ বছর বয়সে দাদুর সম্পর্কে বাল্যস্মৃতির কিছু উল্লেখ করেছেন।

ডাক্তার আইনস্টাইনকে ধূমপান না করতে বলেছিলেন। তাঁর ফুসফুসের অবস্থা ভালো ছিল না, ধূমপান তাঁর স্বাস্থ্যের পক্ষে ক্ষতিকর। ডাক্তার বারণ করেছেন অতএব প্রকাশ্যে বাড়ির ভেতরে ধূমপান বন্ধ। পথের ধারে ডাস্টবিন থেকে আধপোড়া সিগারেটের টুকরো যোগাড় করে তিনি ধূমপান করতেন।
নাতির বয়স মাত্র সাত। দাদু নাতিকে নিয়ে নৌকোয় বেড়াতে বেড়িয়েছেন। মাঝসমুদ্রে নৌকো থামিয়ে সাবানের বুদবুদের জন্ম ও ফেটে যাওয়ার মধ্যে নিহিত অঙ্ক নিয়ে ঝাড়া দুঘণ্টা বক্তৃতা। নাতি কিছুই বুঝবে না। আইনস্টাইন তাকে বুঝিয়ে ছাড়বেন।
সাবানের ফেনা থেকে বুদবুদের উৎপত্তি, তাদের কোনটি বড়ো, কোনটি ছোটো—কোনটি আগে ফাটে, কোনটি পরে ফাটে—প্রত্যেকটির মধ্যে অঙ্ক আছে। দুরুহ এ বিষয়টি কোনো কাজ হাতের কাছে না থাকলে, যাকে কাছে পেতেন তাকেই বোঝাতেন।
আইনস্টাইনের নিকট প্রতিবেশী এক ভদ্রলোক মাছ ধরতে বের হতেন। আইনস্টাইন মাছ ধরার ঘোর বিরোধী। এ নিয়ে ঝগড়া করতে পিছপা নন তিনি। নাতি জিদ ধরল, সেযাবে ওই ভদ্রলোকের সঙ্গে মাছ ধরতে।
—হ্যাঁ মাছ ধরতে যেতে পারো যদি যতগুলি মাছ ধরবে সবগুলি খেতে পারো।
আইনস্টাইনের নাতি ফিজিক্স নিয়ে পড়াশুনা করেছিলেন। নাতি সম্পর্কে তাঁর উচ্চাশা ছিল। নাতিকে পাঁচ হাজার ডলার দিয়ে জুরিখে পাঠিয়েছিলেন ফিজিক্স পড়তে। অনেকদিন পর ফিরে এসে দাদুর সঙ্গে যখন দেখা হল— আইনস্টাইন তাঁকে দু-একটা প্রশ্ন করেন। তাতেই বুঝে যান, নাতি তাঁর ধারে কাছেও আসেনি। নাতি বার্নার্ড স্বীকার করেছেন, দাদুর গভীরতা আমার মধ্যে নেই। লজ্জায় কোনোদিন তাঁর কাছে যাইনি।
নোট নিতে এবং টেক্সট হাইলাইট করতে লগইন করুন
লগইন