চণ্ডী লাহিড়ী
ডা. বিধান চন্দ্র রায়ের মন্ত্রীসভায় (১৯৪৮-৬২) স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ছিলেন কালিপদ মুখোপাধ্যায়। ওয়েলিংটন স্কোয়ারের ঠিক পিছনে ছিল তাঁদের পৈতৃক বাড়ি। সেপাড়ায় তাঁর সময়েই বাস করতেন আরও তিন কালিপদ। তিনজনই মুখোপাধ্যায়। মন্ত্রী কালিপদর সামনের দাঁত ছিল উঁচু—সেজন্য আড়ালে সবাই তাঁর নাম দিয়েছিলেন দেঁতো কালি। নাম যাই হোক না কেন, কালিপদ মুখোপাধ্যায় মন্ত্রী হিসেবে খুবই জনপ্রিয় ছিলেন। পাড়ার দু-নম্বর কালিপদর আড়ালের নাম ছিল শ্মশান কালি। কেউ মারা গেলে খবর পাওয়া মাত্র বাঁশ, দড়ি নিয়ে হাজির হতেন মৃতদেহ শ্মশানে নিয়ে যাবার জন্য।
তিন নম্বর কালিবাবুকে আড়ালে সবাই ডাকতো—ঘোড়া কালি। শেষোক্ত জন কেবল যে নিজে রেস খেলতেন তা নয়, পাড়ার বহু যুবককে রেসকোর্সে নিয়ে গিয়ে পথে বসিয়েছিলেন তিনি।

মন্ত্রী কালিপদ পুলিশ মন্ত্রী হিসেবে খুবই বদনাম কুড়িয়েছিলেন। ১৯৫৩ সালে কলকাতার ট্রাম কোম্পানি মাত্র এক পয়সা ভাড়া বৃদ্ধি ঘোষণা করেন। তার ফলে প্রজা সোসালিস্ট পার্টি এবং কমিউনিস্টরা একযোগে বিক্ষোভে নেমে পড়েন। ১৫টি ট্রামে আগুন দেওয়া হয়। পুলিশের লাঠি চালনায় বহু লোক আহত হয়।
পুলিশ যাতে ভোর রাতেই অ্যাকশনে নেমে পড়ে সেটা নিশ্চিত করতে গ্রেট ইস্টার্ন থেকে খাদ্যের প্যাকেট এসেছিল। খোদ মন্ত্রী নিজে লালবাজারে বসে (যেটা খুব রীতিবিরুদ্ধ) পুলিশকে নির্দেশ দিতে থাকেন। কিন্তু এসব খবর ছাপিয়ে সংবাদ হল রসগোল্লার হাঁড়ি। মন্ত্রী নাকি নিজে ও পুলিশ অফিসারদের জন্য কয়েক হাঁড়ি রসগোল্লা আনিয়েছিলেন। সংবাদটি ফাঁস হয়ে যায়। জনগণের জন্য গুলি, মন্ত্রীর জন্য রসগোল্লা কথাটি মুখে মুখে ফিরতে থাকে। সরকারিভাবে এর প্রতিবাদ হয়। আমি (চন্ডী লাহিড়ী) তখন সদ্য-গোঁপওঠা সাংবাদিক। আমাদের কাগজ বিরোধীদলের কাগজ। আমি চিফ রিপোর্টারের সঙ্গে লালবাজারে যাই। গোপনসূত্রে তখন রসগোল্লা চলে আসে। ছবি তোলা হয় এবং ‘লোকসেবকে’ রসগোল্লার হাঁড়ির ফটো বড়ো করেই ছাপা হয়।
সেই থেকে কলকাতা পুলিশ কোথাও গুলি চালালে লোকের মুখে পাল্টা প্রশ্ন শোনা যায়—রসগোল্লাটা কে খেল? পুলিশ না মন্ত্রী?
নোট নিতে এবং টেক্সট হাইলাইট করতে লগইন করুন
লগইন