চণ্ডী লাহিড়ী
বাইরে তেমন প্রকট না হলেও সৃষ্টিশীল ব্যক্তিত্বের মধ্যে অস্মিতার সংঘাত কিছুটা থাকেই। রবীন্দ্রনাথের সঙ্গে গান্ধীজির বা আইনস্টাইনের সঙ্গে নীলস বোরের কোনো অভ্যন্তরীণ সংঘাত ঘটেছিল কিনা জানা যায়নি। কিন্তু সৃজনশীলতার সর্বোচ্চ ধাপে তাঁরা যেখানে পৌঁছেছিলেন, সেখানে বৃহৎ ব্যক্তিত্বের সংঘাত বোঝার ক্ষমতা সাধারণ মানুষের নেই।
একটু ছোটো জগতের যারা অধিবাসী সেখানে পেশাগত সংঘাত প্রায়ই প্রকাশ্যে চলে আসে। প্রায় অবিশ্বাস্য মনে হলেও অস্মিতাও তো একটি মানবিক ধর্ম। তাছাড়া প্রতিযোগিতায় টিকে থাকার ব্যাপারটাও আছে। বেঁচে থাকলেই প্রতিযোগিতা, মরে গেলে ফুরিয়ে গেল।
হৃষিকেশ মুখার্জির ১৯৬০-এর ছবি ‘অনুরাধার’ ব্যাপারটি বড়ো বেশি প্রকাশ্যে চলে এসেছিল। অনুরাধার নায়িকা ছিলেন অতি সুন্দরী লীলা নাইডু। সেই সুন্দরী শ্রেষ্ঠা তারকাটিকে সামনে রেখে রবিশংকর সুর তৈরি করেছিলেন। মানবিক দুর্বলতা।

বঙ্গকন্যা যূথিকা রায়ের একটি দুর্লভ ভজন আগেই রেকর্ডিং হয়ে গেছে। এবার লতা গাইবেন সিন্ধুভৈরবী রাগে একটি গান। পরিচালনা করবেন স্বয়ং রবিশংকর। তিনি ও তাঁর দল সারা দুপুর স্টুডিয়োয় বসে থাকলেন। লতা এলেন না। তাঁর অহংকার বাধা দিয়েছিল। তোমার মতো আমিও বিশ্বখ্যাত।
১৯৭৯ সালে ‘মীরা’র গান রেকর্ডিং-এ রবিশংকর আশা করেছিলেন, লতাজি আর একটু দরদ দিয়ে গাইবেন। লতা ফাঁকি দিয়ে কাজ সেরেছিলেন এই অভিযোগ সত্ত্বেও বলা যায় গুলজারের এই ‘মীরা’ কেবল মিউজিকের জন্যই বাণিজ্য-সফল হয়েছিল। লতার গানের জন্যে নয়।
সত্যজিৎ রায় নিজেও রবিশংকরের কাজে তেমন খুশি ছিলেন কি?
A journey down music lane (হে, হাউস প্রকাশিত) গ্রন্থটির লেখক রাজু ভারতন জানাচ্ছেন—১৯৫৫-৫৯ সালে রবিশংকর সত্যজিৎ রায়ের অপুর তিনখন্ড নিয়ে ব্যস্ত থাকেন। একদিন রশিশংকরকে প্রশ্ন করলাম— রায়সাহেব তো মস্ত বড়ো পরিচালক, কোনো অসুবিধা হয়নি সরাসরি জবাবটি এড়িয়ে শংকর যেটা বললেন সেটা শ্রদ্ধার কথা নয়। সত্যজিতের সাড়ে ছ-ফুট চেহারার উপস্থিতিটাই নাকি ক্ষতিকর।
কথাটি সত্যজিৎবাবু শুনে দুঃখ পেয়েছিলেন। পাল্টা জবাবে বলেছিলেন, মহারাষ্ট্রের গ্রামেগঞ্জে চাষিরা নাকি তাঁর চেয়েও ভালো সুরারোপ করতে পারে।
সত্যজিৎ একথা বলেছিলেন কিনা সন্দেহ আছে। কারণ সত্যজিতের ভাষা চিরদিনই খুব সংযত। Critically he responded that the Goan musicians in Bombay unfailingly played to the exact footage he wanted, not so Rabi Shankar & Co. রবিশংকরের সঙ্গে সত্যজিতের সম্পর্ক চিরদিনই খুব মধুর ছিল। সেজন্য উপরোক্ত কোর্টসদের সত্য-মিথ্যা পাঠক বিচার করবেন। দুই ব্যক্তিই এখন পরপারে।
সত্যজিতের সঙ্গে যাই হোক, সলিল চৌধুরীর সঙ্গে রবিশংকরের সম্পর্ক কোনোদিনই মধুর ছিল না। রবিশংকর কেবল সেতার বাজাতেন। সলিল পশ্চিমী রাগরাগিণী যেমন বুঝতেন, সব ধরনের বাজনাই কম-বেশি বাজাতেও পারতেন। I told Salil how Ravi Shankar had felt. He tended to make the Orchestra needlessly complicated, also how the Sitar act felt. There was no call to employ Western the for Lata’s O Sajana Barkha Bahar Aayee in Bimal Ray, Parikh.
This Salil instantly up in arms strictly observing what does Ravi Shankar, originally an instrument a list know about composing music.
মান্না দে বলেছিলেন, রবিংশকর তাঁর নিজের মতো বাজাতেন কিন্তু সলিলের বহুমুখী প্রতিভার সঙ্গে তুলনা করা চলে কেবল বাবা আলাউদ্দিনের সঙ্গে, যিনি যে-কোনো যন্ত্র বাজাতে পারতেন।
নোট নিতে এবং টেক্সট হাইলাইট করতে লগইন করুন
লগইন