চণ্ডী লাহিড়ী
বিদ্যাসাগর সম্পর্কে একটি মজার গল্প শুনিয়েছেন—সৈয়দ মুজতবা আলি। বিদ্যাসাগরমশাই উঠে-পড়ে লেগেছিলেন। বিধবাবিবাহের বৈরী মহেশ ন্যায়রত্নকে সর্বার্থে হেয় প্রতিপন্ন করতে। সেই মর্মে তিনি লেখেন, পন্ডিত মহেশকে যে-সভায় সম্মানদানসূচক একটি উপাধি দেওয়া হয়, সে-সভায়, ঈষৎ বিলম্বে উপস্থিত হওয়ায় উপাধিদাতার স্বকন্ঠে উচ্চারিত সেউপাধির নামটি শুনতে পাননি। এদিক ওদিক জিজ্ঞেস করে শুনতে পেলেন, কেউ বলছে কবিরত্ন, কেউবা বলছে কপিরত্ন। অতএব বিদ্যাসাগর বহুতর অলৌকিক গবেষণার পর, স্থির করলেন—উপাধিটি ‘কপিরত্ন’-ই বটেক। তিনি স্মৃতিশাস্ত্র, ন্যায়শাস্ত্র দ্বারা কপিরত্নের সত্যতা, সপ্রমাণ করার পর অবশেষে, অলংকারশাস্ত্রে অবতীর্ণ হয়ে একটি আপ্তবাক্যের পুনরাবৃত্তি করে বললেন, প অক্ষরটি মোলায়েম, ব অক্ষরটি তদ্বৎ নয়। অতএব, অলংকারশাস্ত্রানুযায়ী আমরা কপিরত্ন উপাধিরই প্রাধান্য দেব।
সৈয়দ মুজতবা আলি,
পাক্ষিক বসুমতী, ১৬.১১.১৯৯৩
নোট নিতে এবং টেক্সট হাইলাইট করতে লগইন করুন
লগইন