রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
তোমার ছুটি নীল আকাশে, তোমার ছুটি মাঠে,
তোমার ছুটি থইহারা ওই দিঘির ঘাটে ঘাটে ৷
তোমার ছুটি তেঁতুল-তলায়, গোলাবাড়ির কোণে,
তোমার ছুটি ঝোপেঝাপে পারুল-ডাঙার বনে ৷
তোমার ছুটির আশা কাঁপে কাঁচা ধানের ক্ষেতে,
তোমার ছুটির খুশি নাচে নদীর তরঙ্গেতে ৷ ৷
আমি তোমার চশমা-পরা বুড়ো ঠাকুরদাদা,
বিষয়-কাজের মাকড়সাটার বিষম জালে বাঁধা ৷
আমার ছুটি সেজে বেড়ায় তোমার ছুটির সাজে,
তোমার কণ্ঠে আমার ছুটির মধুর বাঁশি বাজে ৷
আমার ছুটি তোমারই ওই চপল চোখের নাচে,
তোমার ছুটির মাঝখানেতেই আমার ছুটি আছে ৷ ৷
তোমার ছুটির খেয়া বেয়ে শরৎ এল মাঝি,
শিউলিকানন সাজায় তোমার শুভ্র ছুটির সাজি ৷
শিশির-হাওয়া শিরশিরিয়ে কখন রাতারাতি
হিমালয়ের থেকে আসে তোমার ছুটির সাথি ৷
আশ্বিনের এই আলো এল ফুল-ফোটানো ভোরে
তোমার ছুটির রঙে রঙিন চাদরখানি প’রে ৷ ৷
আমার ঘরে ছুটির বন্যা তোমার লাফে ঝাঁপে,
কাজকর্ম হিসাবকিতাব থরথরিয়ে কাঁপে ৷
গলা আমার জড়িয়ে ধর, ঝাঁপিয়ে পড় কোলে—
সেই তো আমার অসীম ছুটি প্রাণের তুফান তোলে ৷
তোমার ছুটি কে যে জোগায় জানি নে তার রীত—
আমার ছুটি জোগাও তুমি, ওইখানে মোর জিত ৷ ৷
নোট নিতে এবং টেক্সট হাইলাইট করতে লগইন করুন
লগইন