রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
ভেবেছিলাম চেয়ে নেব, চাই নি সাহস করে—
সন্ধেবেলায় যে মালাটি গলায় ছিলে প’রে,
আমি চাই নি সাহস করে ৷
ভেবেছিলাম সকাল হলে যখন পারে যাবে চলে
ছিন্ন মালা শয্যাতলে রইবে বুঝি পড়ে ৷
তাই আমি কাঙালের মতো এসেছিলেম ভোরে,
তবু চাই নি সাহস করে ৷ ৷
এ তো মালা নয় গো, এ যে তোমার তরবারি!
জ্বলে ওঠে আগুন যেন বজ্র হেন ভারী,
এ যে তোমার তরবারি ৷
তরুণ আলো জানলা বেয়ে পড়ল তোমার শয়ন ছেয়ে,
ভোরের পাখি শুধায় গেয়ে ‘কী পেলি তুই নারী’ ৷
নয় এ মালা, নয় এ থালা, গন্ধজলের ঝারি—
এ যে ভীষণ তরবারি ৷ ৷
তাই তো আমি ভাবি বসে, একি তোমার দান—
কোথায় এরে লূকিয়ে রাখি, নাই যে হেন স্থান ৷
ওগো, একি তোমার দান!
শক্তিহীনা মরি লাজে, এ ভূষণ কি আমায় সাজে,
রাখতে গেলে বুকের মাঝে :ব্যথা যে পায় প্রাণ ৷
তবু আমি বইব বুকে এই বেদনার মান—
নিয়ে তোমারি এই দান ৷ ৷
আজকে হতে জগৎ-মাঝে ছাড়ব আমি ভয়,
আজ হতে মোর সকল কাজে তোমার হবে জয়—
আমি ছাড়ব সকল ভয় ৷
মরণকে মোর দোসর ক’রে রেখে গেছ আমার ঘরে,
আমি তারে বরণ করে রাখব পরান-ময় ৷
তোমার তরবারি আমার করবে বাঁধন ক্ষয়—
আমি ছাড়ব সকল ভয় ৷ ৷
তোমার লাগি অঙ্গ ভরি করব না আর সাজ ৷
নাই-বা তুমি ফিরে এলে ওগো হৃদয়-রাজ,
আমি করব না আর সাজ ৷
ধুলায় বসে তোমার তরে কাঁদব না আর একলা ঘরে,
তোমার লাগি ঘরে-পরে মানব না আর লাজ ৷
তোমার তরবারি আমায় সাজিয়ে দিল আজ—
আমি করব না আর সাজ ৷ ৷
গিরিডি
২৬ ভাদ্র ১৩১২
নোট নিতে এবং টেক্সট হাইলাইট করতে লগইন করুন
লগইন