রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
কাছে এল পূজার ছুটি ৷
রোদদুরে লেগেছে চাঁপাফুলের রঙ ৷
হাওয়া উঠছে শিশিরে শিরশিরিয়ে,
শিউলির গন্ধ এসে লাগে
যেন কার ঠান্ডা হাতের কোমল সেবা ৷
আকাশের কোণে কোণে সাদা মেঘের আলস্য—
দেখে, মন লাগে না কাজে ৷ ৷
মাস্টারমশায় পড়িয়ে চলেন
পাথুরে কয়লার আদিম কথা ৷
ছেলেটা বেঞ্চিতে পা দোলায়,
ছবি দেখে আপন মনে—
কমলদিঘির ফাটল-ধরা ঘাট,
আর ভঞ্জদের পাঁচিল-ঘেঁষা
আতাগাছের ফলে-ভরা ডাল ৷
আর দেখে সে মনে-মনে, তিসির ক্ষেতে
গোয়ালপাড়ার ভিতর দিয়ে
রাস্তা গেছে এঁকেবেঁকে হাটের পাশে
নদীর ধারে ৷ ৷
কলেজের ইকনমিকস-ক্লাসে
খাতায় ফর্দ নিচ্ছে টুকে
চশমা-চোখে মেডেল-পাওয়া ছাত্র
হালের লেখা কোন উপন্যাস কিনতে হবে,
ধারে মিলবে কোন দোকানে—
‘মনে রেখো’ পাড়ের শাড়ি,
সোনায়-জড়ানো শাঁখা,
দিল্লির কাজ-করা লাল মখমলের চটি ৷
আর চাই রেশমে-বাঁধাই-করা
অ্যান্টিক-কাগজে-ছাপা কবিতার বই—
এখনো তার নাম মনে পড়ছে না ৷ ৷
ভবানীপুরের তেতালা বাড়িতে
আলাপ চলছে সরু মোটা গলায়—
এবার আবু পাহাড় না মাদুরা,
না ড্যালহৌসি কিম্বা পুরী,
না সেই চিরকেলে চেনা লোকের দার্জিলিঙ? ৷
আর দেখছি, সামনে দিয়ে স্টেশনে যাবার রাঙা রাস্তায়
শহরের-দাদন-দেওয়া দড়ি-বাঁধা ছাগল-ছানা পাঁচটা-ছটা ক’রে;
তাদের নিষ্ফল কান্নার স্বর ছড়িয়ে পড়ে
কাশের-ঝালর-দোলা শরতের শান্ত আকাশে ৷
কেমন করে বুঝেছে তারা
এল তাদের পূজার ছুটির দিন ৷ ৷
১৭ ভাদ্র ১৩৩৯
নোট নিতে এবং টেক্সট হাইলাইট করতে লগইন করুন
লগইন