রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
শুধু অকারণ পুলকে
ক্ষণিকের গান গা রে আজি প্রাণ, ক্ষণিক দিনের আলোকে ৷
যারা আসে যায়, হাসে আর চায়,
পশ্চাতে যারা ফিরে না তাকায়,
নেচে ছুটে ধায়, কথা না শুধায়, ফুটে আর টুটে পলকে—
তাহাদেরই গান গা রে আজি প্রাণ, ক্ষণিক দিনের আলোকে ৷ ৷
প্রতি নিমেষের কাহিনী
আজি বসে বসে গাঁথিস নে আর, বাঁধিস নে স্মৃতিবাহিনী ৷
যা আসে আসুক, যা হবার হোক,
যাহা চলে যায় মুছে যাক শোক,
গেয়ে ধেয়ে যাক দ্যুলোক ভূলোক প্রতি পলকের রাগিণী ৷
নিমেষে নিমেষ হয়ে যাক শেষ বহি নিমেষের কাহিনী ৷ ৷
ফুরায় যা দে রে ফুরাতে!
ছিন্ন মালার ভ্রষ্ট কুসুম ফিরে যাস নেকো কুড়াতে ৷
বুঝি নাই যাহা চাই না বুঝিতে,
জুটিল না যাহা চাই না খুঁজিতে,
পুরিল না যাহা কে রবে যুঝিতে তারি গহবর পুরাতে ৷
যখন যা পাস মিটায়ে নে আশ, ফুরাইলে দিস ফুরাতে ৷ ৷
ওরে থাক থাক কাঁদনি ৷
দুই হাত দিয়ে ছিঁড়ে ফেলে দে রে নিজ-হাতে-বাঁধা বাঁধনি ৷
যে সহজ তোর রয়েছে সমুখে
আদরে তাহারে ডেকে নে রে বুকে,
আজিকার মতো যাক যাক চুকে যত অসাধ্য-সাধনি ৷
ক্ষণিক সুখের উৎসব আজি— ওরে, থাক থাক কাঁদনি ৷ ৷
শুধু অকারণ পুলকে
নদীজলে-পড়া আলোর মতন ছুটে যা ঝলকে ঝলকে ৷
ধরণীর ’পরে শিথিল-বাঁধন
ঝলমল প্রাণ করিস যাপন,
ছুঁয়ে থেকে দুলে শিশির যেমন শিরীষফুলের অলকে ৷
মর্মরতানে ভরে ওঠ গানে শুধু অকারণ পুলকে ৷ ৷
নোট নিতে এবং টেক্সট হাইলাইট করতে লগইন করুন
লগইন