রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
সন্ধ্যা হয়ে আসে,
সোনা-মিশোল ধূসর আলো ঘিরল চারি পাশে ৷
নৌকোখানা বাঁধা আমার মধ্যিখানের গাঙে;
অস্তরবির কাছে নয়ন কী যেন ধন মাঙে ৷
আপন গাঁয়ে কুটির আমার দূরের পটে লেখা,
ঝাপসা আভায় যাচ্ছে দেখা বেগনি রঙের রেখা ৷
যাব কোথায় কিনারা তার নাই,
পশ্চিমেতে মেঘের গায়ে একটু আভাস পাই ৷ ৷
হাঁসের দলে উড়ে চলে হিমালয়ের পানে;
পাখা তাদের চিহ্নবিহীন পথের খবর জানে ৷
শ্রাবণ গেল, ভাদ্র গেল, শেষ হল জল-ঢালা;
আকাশ-তলে শুরু হল শুভ্র আলোর পালা ৷
ক্ষেতের পরে ক্ষেত একাকার প্লাবনে রয় ডুবে ৷
লাগল জলের দোল-যাত্রা পশ্চিমে আর পুবে ৷
লাগল জলের দোলযাত্রা পশ্চিমে আর পুবে ৷
আসন্ন এই আঁধার-মুখে নৌকোখানি বেয়ে
যায় কারা ওই; শুধাই, ‘ওগো নেয়ে,
চলেছ কোনখানে?’
যেতে যেতে জবাব দিল, ‘যাব গাঁয়ের পানে ৷’
অচিন-শূন্যে-ওড়া পাখি চেনে আপন নীড়,
জানে বিজন-মধ্যে কোথায় আপন-জনের ভিড় ৷
অসীম আকাশ মিলেছে ওর বাসার সীমানাতে—
ওই অজানা জড়িয়ে আছে জানাশোনার সাথে ৷
তেমনি ওরা ঘরের পথিক, ঘরের দিকে চলে
যেথায় ওদের তুলসিতলায় সন্ধ্যাপ্রদীপ জ্বলে ৷
দাঁড়ের শব্দ ক্ষীণ হয়ে যায় ধীরে,
মিলায় সুদূর নীরে ৷
সেদিন দিনের অবসানে সজল মেঘের ছায়ে
আমার চলার ঠিকানা নাই, ওরা চলল গাঁয়ে ৷
আলমোড়া
[:খসড়া : ১৪ জ্যৈষ্ঠ ১৩৪৪:]
নোট নিতে এবং টেক্সট হাইলাইট করতে লগইন করুন
লগইন