রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
‘কে নিবি গো কিনে আমায়, কে নিবি গো কিনে’
পসরা মোর হেঁকে হেঁকে বেড়াই রাতে দিনে ৷
এমনি ক’রে হায় আমার
দিন যে চলে যায়—
মাথার ’পরে বোঝা আমার বিষম হল দায় ৷
কেউ-বা আসে, কেউ-বা হাসে, কেউ-বা কেঁদে চায় ৷ ৷
মধ্যদিনে বেড়াই রাজার পাষাণ-বাঁধা পথে,
মুকুট-মাথে অস্ত্র-হাতে রাজা এল রথে ৷
বললে হাতে ধরে ‘তোমায়
কিনব আমি জোরে’—
জোর যা ছিল ফুরিয়ে গেল টানাটানি করে ৷
মুকুট-মাথে ফিরল রাজা সোনার রথে চড়ে ৷ ৷
রুদ্ধ দ্বারের সমুখ দিয়ে ফিরতেছিলেম গলি ৷
দুয়ার খুলে বৃদ্ধ এল, হাতে টাকার থলি ৷
করলে বিবেচনা, বললে
‘কিনব দিয়ে সোনা’—
উজাড় করে দিয়ে থলি করলে আনাগোনা ৷
বোঝা মাথায় নিয়ে কোথায় গেলেম অন্যমনা ৷ ৷
সন্ধ্যাবেলায় জ্যোৎস্না নামে মুকুল-ভরা গাছে ৷
সুন্দরী সে বেরিয়ে এল বকুল-তলার কাছে ৷
বললে কাছে এসে ‘তোমায়
কিনব আমি হেসে’—
হাসিখানি চোখের জলে মিলিয়ে এল শেষে ৷
ধীরে ধীরে ফিরে গেল বনছায়ার দেশে ৷ ৷
সাগরতীরে রোদ পড়েছে, ঢেউ দিয়েছে জলে,
ঝিনুক নিয়ে খেলে শিশু বালুতটের তলে ৷
যেন আমায় চিনে বললে
‘অমনি নেব কিনে’—
বোঝা আমার খালাস হল তখনি সেই দিনে ৷
খেলার মুখে বিনামূল্যে নিল আমায় জিনে ৷ ৷
আর্বানা ৷ যুক্তরাজ্য ৷ আমেরিকা
৮ জানুয়ারি ১৯১৩ [২৪ পৌষ ১৩১৯]
নোট নিতে এবং টেক্সট হাইলাইট করতে লগইন করুন
লগইন