রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
পুষ্প ছিল বৃক্ষশাখে, হে নারী, তোমার অপেক্ষায়
পল্লবচ্ছায়ায় ৷
তোমার নিশ্বাস তারে লেগে
অন্তরে সে উঠিয়াছে জেগে,
মুখে তব কী দেখিতে পায় ৷ ৷
সে কহিছে, ‘বহু পূর্বে তুমি আমি কবে একসাথে
আদিম প্রভাতে
প্রথম আলোকে জেগে উঠি
এক ছন্দে বাঁধা রাখী দুটি
দুজনে পরিনু হাতে হাতে ৷ ৷
আধো-আলো-অন্ধকারে উড়ে এনু মোরা পাশে পাশে
প্রাণের বাতাসে ৷
একদিন কবে কোন মোহে
দুই পথে চলে গেনু দোঁহে,
আমাদের মাটির আবাসে ৷ ৷
বারে বারে বনে বনে জন্ম লই নব নব বেশে
নব নব দেশে ৷
যুগে যুগে রূপে রূপান্তরে
ফিরিনু সে কী সন্ধান-তরে
সৃজনের নিগূঢ় উদ্দেশে ৷ ৷
অবশেষে দেখিলাম, কত জন্মপরে নাহি জানি,
ওই মুখখানি ৷
বুঝিলাম আমি আজও আছি
প্রথমের সেই কাছাকাছি,
তুমি পেলে চরমের বাণী ৷ ৷
তোমার আমার দেহে আদিছন্দ আছে অনাবিল
আমাদের মিল ৷
তোমার আমার মর্মতলে
একটি সে মূল সুর চলে,
প্রবাহ তাহার অন্তঃশীল ৷ ৷
কী যে বলে সেই সুর, কোন দিকে তাহার প্রত্যাশা—
জানি নাই ভাষা ৷
আজ, সখী, বুঝিলাম আমি
সুন্দর আমাতে আছে থামি—
তোমাতে সে হল ভালোবাসা ৷’
[:খড়দহ:] ১১ মাঘ [:১৩৩৮:]
নোট নিতে এবং টেক্সট হাইলাইট করতে লগইন করুন
লগইন