রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
প্রভু, তুমি পূজনীয় ৷ আমার কী জাত
জান তাহা হে জীবননাথ ৷
তবুও সবার দ্বার ঠেলে
কেন এলে
কোন দুখে
আমার সম্মুখে!
ভরা ঘট লয়ে কাঁখে
মাঠের পথের বাঁকে বাঁকে
তীব্র দ্বিপ্রহরে
আসিতেছিলাম ধেয়ে আপনার ঘরে ৷
চাহিলে তৃষ্ণার বারি—
আমি হীন নারী
তোমারে করিব হেয়,
সে কি মোর শ্রেয়!
ঘটখানি নামাইয়া চরণে প্রণাম ক’রে
কহিলাম, ‘অপরাধী করিয়ো না মোরে ৷’
শুনিয়া, আমার মুখে তুলিলে নয়ন বিশ্বজয়ী;
হাসিয়া কহিলে, ‘হে মৃন্ময়ী,
পুণ্য যথা মৃত্তিকার এই বসুন্ধরা
শ্যামল কান্তিতে ভরা,
সেইমতো তুমি
লক্ষ্মীর আসন, তাঁর কমলচরণ আছ চুমি ৷
সুন্দরের কোনো জাত নাই,
মুক্ত সে সদাই ৷
তাহারে অরুণ-রাঙা উষা
পরায় আপন ভূষা,
তারাময়ী রাতি
দেয় তার বরমাল্য গাঁথি ৷
মোর কথা শোনো,
শতদল পঙ্কজের জাতি নেই কোনো ৷
যার মাঝে প্রকাশিল স্বর্গের নির্মল অভিরুচি
সেও কি অশুচি!
বিধাতা প্রসন্ন যেথা আপনার হাতের সৃষ্টিতে
নিত্য তার অভিষেক নিখিলের আশিসবৃষ্টিতে ৷’
জলভরা মেঘস্বরে এই কথা ব’লে
তুমি গেলে চলে ৷ ৷
তার পর হতে
এ ভঙ্গুর পাত্রখানি প্রতিদিন উষার আলোতে
নানা বর্ণে আঁকি;
নানা চিত্ররেখা দিয়ে মাটি তার ঢাকি ৷
হে মহান, নেমে এসে তুমি যারে করেছ গ্রহণ,
সৌন্দর্যের অর্ঘ্য তার তোমা-পানে করুক বহন ৷ ৷
৮ শ্রাবণ ১৩৩৯
নোট নিতে এবং টেক্সট হাইলাইট করতে লগইন করুন
লগইন