রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
এ প্রাণ রাতের রেলগাড়ি
দিল পাড়ি—
কামরায় গাড়ি-ভরা ঘুম,
রজনী নিঝুম ৷
অসীম আঁধারে
কালি-লেপা কিছু-নয় মনে হয় যারে
নিদ্রার পারে রয়েছে সে
পরিচয়হারা দেশে ৷
ক্ষণ-আলো ইঙ্গিতে উঠে ঝলি,
পার হয়ে যায় চলি
অজানার পরে অজানায়
অদৃশ্য ঠিকানায় ৷
অতিদূর তীর্থের যাত্রী,
ভাষাহীন রাত্রি—
দূরের কোথা যে শেষ
ভাবিয়া না পাই উদ্দেশ ৷ ৷
চালায় যে নাম নাহি কয়;
কেউ বলে যন্ত্র সে, আর-কিছু নয় ৷
মনোহীন বলে তারে, তবু অন্ধের হাতে
প্রাণমন সঁপি দিয়া বিছানা সে পাতে ৷
বলে সে অনিশ্চিত, তবু জানে অতি
নিশ্চিত তার গতি ৷
নামহীন যে অচেনা বারবার পার হয়ে যায়,
অগোচরে যারা সবে রয়েছে সেথায়
তারি যেন বহে নিশ্বাস—
সন্দেহ-আড়ালেতে-মুখ-ঢাকা জাগে বিশ্বাস ৷
গাড়ি চলে,
নিমেষ বিরাম নাই আকাশের তলে ৷
ঘুমের ভিতরে থাকে অচেতনে
কোন দূর প্রভাতের প্রত্যাশা নিদ্রিত মনে ৷
শান্তিনিকেতন
২৮ মার্চ ১৯৪০ [:১৫ চৈত্র ’৪৬:]
নোট নিতে এবং টেক্সট হাইলাইট করতে লগইন করুন
লগইন