রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
জগতের মাঝে কত বিচিত্র তুমি হে
তুমি বিচিত্ররূপিণী ৷
অযুত আলোকে ঝলসিছ নীল গগনে,
আকুল পুলকে উলসিছ ফুলকাননে,
দ্যুলোকে ভূলোকে বিলসিছ চলচরণে
তুমি চঞ্চলগামিনী ৷
মুখর নূপুর বাজিছে সুদূর আকাশে,
অলকগন্ধ উড়িছে মন্দ বাতাসে,
মধুর নৃত্যে নিখিল চিত্তে বিকাশে
কত মঞ্জুল রাগিণী ৷
কত-না বর্ণে কত-না স্বর্ণে গঠিত,
কত-যে ছন্দে কত সংগীতে রটিত,
কত-না গ্রন্থে কত-না কণ্ঠে পঠিত—
তব অসংখ্য কাহিনী ৷
জগতের মাঝে কত বিচিত্র তুমি হে
তুমি বিচিত্ররূপিণী ৷ ৷
অন্তরমাঝে শুধু তুমি একা একাকী
তুমি অন্তরব্যাপিনী ৷
একটি স্বপ্ন মুগ্ধ সজল নয়নে,
একটি পদ্ম হৃদয়বৃন্তশয়নে,
একটি চন্দ্র অসীম চিত্তগগনে—
চারি দিকে চিরযামিনী ৷
অকূল শান্তি, সেথায় বিপুল বিরতি,
একটি ভক্ত করিছে নিত্য আরতি,
নাহি কাল দেশ, তুমি অনিমেষ মুরতি—
তুমি অচপল দামিনী ৷
ধীর গম্ভীর গভীর মৌন মহিমা,
স্বচ্ছ অতল স্নিগ্ধ নয়ননীলিমা,
স্থির হাসিখানি উষালোকসম অসীমা,
অয়ি প্রশান্তহাসিনী!
অন্তরমাঝে তুমি শুধু একা একাকী,
তুমি অন্তরবাসিনী ৷ ৷
[:সাহাজাদপুর:]
১৮ অগ্রহায়ণ ১৩০২
নোট নিতে এবং টেক্সট হাইলাইট করতে লগইন করুন
লগইন