রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
খোকা মাকে শুধায় ডেকে, ‘এলেম আমি কোথা থেকে
কোনখেনে তুই কুড়িয়ে পেলি আমারে?’
মা শুনে কয় হেসে কেঁদে খোকারে তার বুকে বেঁধে—
‘ইচ্ছা হয়ে ছিলি মনের মাঝারে ৷ ৷
‘ছিলি আমার পুতুল-খেলায়, ভোরে শিবপূজার বেলায়
তোরে আমি ভেঙেছি আর গড়েছি ৷
তুই আমার ঠাকুরের সনে ছিলি পূজার সিংহাসনে,
তাঁরি পূজায় তোমার পূজা করেছি ৷ ৷
‘আমার চিরকালের আশায়, আমার সকল ভালোবাসায়,
আমার মায়ের দিদিমায়ের পরানে,
পুরানো এই মোদের ঘরে গৃহদেবীর কোলের ’পরে
কতকাল যে লুকিয়ে ছিলি কে জানে ৷ ৷
‘যৌবনেতে যখন হিয়া উঠেছিল প্রস্ফুটিয়া
তুই ছিলি সৌরভের মতো মিলায়ে,
আমার তরুণ অঙ্গে অঙ্গে জড়িয়ে ছিলি সঙ্গে সঙ্গে
তোর লাবণ্য কোমলতা বিলায়ে ৷ ৷
‘সব দেবতার আদরের ধন নিত্যকালের তুই পুরাতন
তুই প্রভাতের আলোর সমবয়সি ৷
তুই জগতের স্বপ্ন হতে এসেছিস আনন্দস্রোতে
নূতন হয়ে আমার বুকে বিলসি ৷ ৷
‘নির্নিমেষে তোমায় হেরে তোর রহস্য বুঝি নে রে—
সবার ছিলি, আমার হলি কেমনে!
ওই দেহে এই দেহ চুমি মায়ের খোকা হয়ে তুমি
মধুর হেসে দেখা দিলে ভুবনে ৷ ৷
‘হারাই হারাই ভয়ে গো তাই বুকে চেপে রাখতে যে চাই,
কেঁদে মরি একটু সরে দাঁড়ালে—
জানি নে কোন মায়ায় ফেঁদে বিশ্বের ধন রাখব বেঁধে
আমার এ ক্ষীণ বাহুদুটির আড়ালে ৷’
[:আলমোড়া
৩২ ই শ্রাবণ ১৩১০:]
নোট নিতে এবং টেক্সট হাইলাইট করতে লগইন করুন
লগইন