রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
সহসা তুমি করেছ ভুল গানে,
বেধেছে লয় তানে,
স্খলিত পদে হয়েছে তাল ভাঙা—
শরমে তাই মলিন মুখ নত
দাঁড়ালে থতোমতো,
তাপিত দুটি কপোল হল রাঙা ৷
নয়নকোণ করিছে ছলোছলো,
শুধালে তবু কথা কিছু না বল—
অধর থরোথরো,
আবেগভরে বুকের ’পরে মালাটি চেপে ধর ৷ ৷
অবমানিতা, জান না তুমি নিজে
মাধুরী এল কী যে
বেদনাভরা ত্রুটির মাঝখানে ৷
নিখুঁত শোভা নিরতিশয় তেজে
অপরাজেয় সে যে
পূর্ণ নিজে নিজেরই সম্মানে ৷
একটুখানি দোষের ফাঁক দিয়ে
হৃদয়ে আজি নিয়ে এসেছ, প্রিয়ে,
করুণ পরিচয়—
শরৎপ্রাতে আলোর সাথে ছায়ার পরিণয় ৷ ৷
তৃষিত হয়ে ওইটুকুরই লাগি
আছিল মন জাগি,
বুঝিতে তাহা পারি নি এতদিন ৷
গৌরবের গিরিশিখর-’পরে
ছিলে যে সমাদরে
তুষারসম শুভ্র সুকঠিন ৷
নামিলে নিয়ে অশ্রজলধারা
ধূসর ম্লান আপন-মান-হারা
আমারও ক্ষমা চাহি—
তখনি জানি আমারই তুমি, নাহি গো দ্বিধা নাহি ৷ ৷
এখন আমি পেয়েছি অধিকার
তোমার বেদনার
অংশ নিতে আমার বেদনায় ৷
আজিকে সব ব্যাঘাত টুটে
জীবনে মোর উঠিল ফুটে
শরম তব পরম করুণায় ৷
অকুণ্ঠিত দিনের আলো
টেনেছে মুখে ঘোমটা কালো—
আমার সাধনাতে
এল তোমার প্রদোষবেলা সাঁঝের তারা হাতে ৷ ৷
৬ বৈশাখ ১৩৪১
নোট নিতে এবং টেক্সট হাইলাইট করতে লগইন করুন
লগইন