রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
যদি ভরিয়া লইবে কুম্ভ, এসো, ওগো, এসো মোর
হৃদয়নীরে ৷
তলতল ছলছল কাঁদিবে গভীর জল
ওই দুটি সুকোমল চরণ ঘিরে ৷
আজি বর্ষা গাঢ়তম, নিবিড়কুন্তলসম
মেঘ নামিয়াছে মম দুইটি তীরে ৷
ওই-যে শবদ চিনি— নূপুর-রিনিকি-ঝিনি,
কে গো তুমি একাকিনী আসিছ ধীরে ৷
যদি ভরিয়া লইবে কুম্ভ এসো ওগো, এসো মোর
হৃদয়নীরে ৷ ৷
যদি কলস ভাসায়ে জলে বসিয়া থাকিতে চাও
আপনা ভুলে—
হেথা শ্যাম দূর্বাদল, নবনীল নভস্তল,
বিকশিত বনস্থল বিকচ ফুলে ৷
দুটি কালো আঁখি দিয়া মন যাবে বাহিরিয়া
অঞ্চল খসিয়া গিয়া পড়িবে খুলে,
চাহিয়া বঞ্জুলবনে কী জানি পড়িবে মনে
বসি কুঞ্জতৃণাসনে শ্যামল কূলে ৷
যদি কলস ভাসায়ে জলে বসিয়া থাকিতে চাও
আপনা ভুলে ৷ ৷
যদি গাহন করিতে চাও এসো নেমে এসো হেথা
গহনতলে ৷
নীলাম্বরে কিবা কাজ, তীরে ফেলে এসো আজ,
ঢেকে দিবে সব লাজ সুনীল জলে ৷
সোহাগতরঙ্গরাশি অঙ্গখানি নিবে গ্রাসি,
উচ্ছ্বসি পড়িবে আসি উরসে গলে ৷
ঘুরে ফিরে চারি পাশে কভু কাঁদে কভু হাসে
কুলুকুলু কলভাষে কত-কী ছলে!
যদি গাহন করিতে চাও এসো নেমে এসো হেথা
গহনতলে ৷ ৷
যদি মরণ লভিতে চাও এসো তবে ঝাঁপ দাও
সলিলমাঝে ৷
স্নিগ্ধ, শান্ত, সুগভীর, নাহি তল, নাহি তীর—
মৃত্যুসম নীল নীর স্থির বিরাজে ৷
নাহি রাত্রি দিনমান— আদি অন্ত পরিমাণ,
সে অতলে গীতগান কিছু না বাজে ৷
যাও সব যাও ভুলে, নিখিল বন্ধন খুলে
ফেলে দিয়ে এসো কূলে সকল কাজে ৷
যদি মরণ লভিতে চাও এসো তবে ঝাঁপ দাও
সলিলমাঝে ৷
১২ আষাঢ় ১৩০০
নোট নিতে এবং টেক্সট হাইলাইট করতে লগইন করুন
লগইন