গান্ধারীর আবেদন

রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর

দুর্যোধন ৷ প্রণমি চরণে তাত!

ধৃতরাষ্ট্র ৷ ওরে দুরাশয়,

অভীষ্ট হয়েছে সিদ্ধ!

দুর্যোধন ৷ লভিয়াছি জয় ৷

ধৃতরাষ্ট্র ৷ এখন হয়েছ সুখী!

দুর্যোধন ৷ হয়েছি বিজয়ী ৷

ধৃতরাষ্ট্র ৷ অখণ্ড রাজত্ব জিনি সুখ তোর কই

রে দুর্মতি?

দুর্যোধন ৷ সুখ চাহি নাই মহারাজ—

জয়! জয় চেয়েছিনু, জয়ী আমি আজ ৷

ক্ষুদ্র সুখে ভরে নাকো ক্ষত্রিয়ের ক্ষুধা

কুরুপতি! দীপ্তজ্বালা অগ্নিঢালা সুধা

জয়রস, ঈর্ষাসিন্ধুমন্থনসঞ্জাত,

সদ্য করিয়াছি পান— সুখী নাহি তাত,

অদ্য আমি জয়ী ৷ পিতঃ, সুখে ছিনু যবে

একত্রে আছিনু বদ্ধ পাণ্ডবে কৌরবে,

কলঙ্ক যেমন থাকে শশাঙ্কের বুকে,

কর্মহীন গর্বহীন দীপ্তিহীন সুখে ৷

সুখে ছিনু, পাণ্ডবের গাণ্ডীবটঙ্কারে

শঙ্কাকুল শত্রুদল আসিত না দ্বারে;

সুখে ছিনু, পাণ্ডবেরা জয়দৃপ্ত করে

ধরিত্রী দোহন করি ভ্রাতৃপ্রীতিভরে

দিত অংশ তার— নিত্যনব ভোগসুখে

আছিনু নিশ্চিন্তচিত্তে অনন্ত কৌতুকে ৷

সুখে ছিনু, পাণ্ডবের জয়ধ্বনি যবে

হানিত কৌরবকর্ণ প্রতিধ্বনিরবে,

পাণ্ডবের যশোবিম্ব-প্রতিবিম্ব আসি

উজ্জ্বল অঙ্গুলি দিয়া দিত পরকাশি

মলিন কৌরবকক্ষ ৷ সুখে ছিনু পিতঃ,

আপনার সর্বতেজ করি নির্বাপিত

পাণ্ডবগৌরবতলে স্নিগ্ধশান্তরূপে,

হেমন্তের ভেক যথা জড়ত্বের কূপে ৷

আজি পাণ্ডুপুত্রগণে পরাভব বহি

বনে যায় চলি— আজ আমি সুখী নহি,

আজ আমি জয়ী ৷

ধৃতরাষ্ট্র ৷ ধিক তোর ভ্রাতৃদ্রোহ ৷

পাণ্ডবের কৌরবের এক পিতামহ,

সে কি ভুলে গেলি?

দুর্যোধন ৷ ভুলিতে পারি নে সে যে—

এক পিতামহ, তবু ধনে মানে তেজে

এক নহি ৷ যদি হ’ত দূরবর্তী পর,

নাহি ছিল ক্ষোভ ৷ শর্বরীর শশধর

মধ্যাহ্নের তপনেরে দ্বেষ নাহি করে—

কিন্তু প্রাতে এক পূর্ব-উদয়শিখরে

দুই ভ্রাতৃ-সূর্যলোক কিছুতে না ধরে ৷

আজ দ্বন্দ্ব ঘুচিয়াছে, আজি আমি জয়ী,

আজি আমি একা ৷

ধৃতরাষ্ট্র ৷ ক্ষুদ্র ঈর্ষা! বিষময়ী

ভুজঙ্গিনী!

দুর্যোধন ৷ ক্ষুদ্র নহে, ঈর্ষা সুমহতী ৷

ঈর্ষা বৃহতের ধর্ম ৷ দুই বনস্পতি

মধ্যে রাখে ব্যবধান; লক্ষ লক্ষ তৃণ

একত্রে মিলিয়া থাকে বক্ষে বক্ষে লীন ৷

নক্ষত্র অসংখ্য থাকে সৌভ্রাত্রবন্ধনে—

এক সূর্য, এক শশী ৷ মলিন কিরণে

দূর বন-অন্তরালে পাণ্ডুচন্দ্রলেখা

আজি অস্ত গেল, আজি কুরুসূর্য একা—

আজি আমি জয়ী ৷

ধৃতরাষ্ট্র ৷ আজি ধর্ম পরাজিত ৷

দুর্যোধন ৷ লোকধর্ম রাজধর্ম এক নহে পিতঃ!

লোকসমাজের মাঝে সমকক্ষ জন

সহায় সুহৃদ-রূপে নির্ভর বন্ধন ৷

কিন্তু রাজা একেশ্বর; সমকক্ষ তার

মহাশত্রু, চিরবিঘ্ন, স্থান দুশ্চিন্তার,

সম্মুখের অন্তরাল, পশ্চাতের ভয়,

অহর্নিশি যশঃশক্তিগৌরবের ক্ষয়,

ঐশ্বর্যের অংশ-অপহারী ৷ ক্ষুদ্রজনে

বলভাগ ক’রে লয়ে বান্ধবের সনে

রহে বলী; রাজদণ্ড যত খণ্ড হয়

তত তার দুর্বলতা, তত তার ক্ষয় ৷

একা সকলের ঊর্ধ্বে মস্তক আপন

যদি না রাখিবে রাজা, যদি বহুজন

বহুদূর হতে তাঁর সমুদ্ধত শির

নিত্য না দেখিতে পায় অব্যাহত স্থির,

তবে বহুজন-’পরে বহু দূরে তাঁর

কেমনে শাসনদৃষ্টি রহিবে প্রচার?

রাজধর্মে ভ্রাতৃধর্ম বন্ধুধর্ম নাই,

শুধু জয়ধর্ম আছে:; মহারাজ, তাই

আজি আমি চরিতার্থ, আজি জয়ী আমি—

সম্মুখের ব্যবধান গেছে আজি নামি

পাণ্ডবগৌরবগিরি পঞ্চচূড়াময় ৷

ধৃতরাষ্ট্র ৷ জিনিয়া কপট দ্যুতে তারে কোস জয়?

লজ্জাহীন অহংকারী!

দুর্যোধন ৷ যার যাহা বল

তাই তার অস্ত্র, পিতঃ, যুদ্ধের সম্বল ৷

ব্যাঘ্রসনে নখে দন্তে নহিকো সমান,

তাই ব’লে ধনুঃশরে বধি তার প্রাণ

কোন নর লজ্জা পায়? মূঢ়ের মতন

ঝাঁপ দিয়ে মৃত্যু-মাঝে আত্মসমর্পণ

যুদ্ধ নহে ৷ জয়লাভ এক লক্ষ্য তার ৷

আজি আমি জয়ী পিতঃ, তাই অহংকার ৷

ধৃতরাষ্ট্র ৷ আজি তুমি জয়ী, তাই তব নিন্দাধ্বনি

পরিপূর্ণ করিয়াছে অম্বর অবনী

সমুচ্চ ধিক্কারে ৷

দুর্যোধন ৷ নিন্দা! আর নাহি ডরি,

নিন্দারে করিব ধ্বংস কণ্ঠরুদ্ধ করি ৷

নিস্তব্ধ করিয়া দিব মুখরা নগরী

স্পর্ধিত রসনা তার দৃঢ়বলে চাপি

মোর পাদপীঠতলে ৷ দুর্যোধন পাপী,

দুর্যোধন ত্রূরমনা, দুর্যোধন হীন—

নিরুত্তরে শুনিয়া এসেছি এতদিন;

রাজদণ্ড স্পর্শ করি কহি মহারাজ,

আপামর জনে আমি কহাইব আজ—

দুর্যোধন রাজা, দুর্যোধন নাহি সহে

রাজনিন্দা-আলোচনা, দুর্যোধন বহে

নিজ হস্তে নিজ নাম ৷

ধৃতরাষ্ট্র ৷ ওরে বৎস, শোন,

নিন্দারে রসনা হতে দিলে নির্বাসন

নিম্নমুখে অন্তরের গূঢ় অন্ধকারে

গভীর জটিল মূল সুদূরে প্রসারে,

নিত্য বিষতিক্ত করি রাখে চিত্ততল ৷

রসনায় নৃত্য করি চপল চঞ্চল

নিন্দা শ্রান্ত হয়ে পড়ে; দিয়ো না তাহারে

নিঃশব্দে আপন শক্তি বৃদ্ধি করিবারে

গোপন হৃদয়দুর্গে ৷ প্রীতিমন্ত্রবলে

শান্ত করো, বন্দী করো নিন্দাসর্পদলে

বংশীরবে হাস্যমুখে ৷

দুর্যোধন ৷ অব্যক্ত নিন্দায়

কোনো ক্ষতি নাহি করে রাজমর্যাদায়;

ভ্রূক্ষেপ না করি তাহে ৷ প্রীতি নাহি পাই

তাহে খেদ নাহি, কিন্তু স্পর্ধা নাহি চাই

মহারাজ! প্রীতিদান স্বেচ্ছার অধীন,

প্রীতিভিক্ষা দিয়ে থাকে দীনতম দীন—

সে প্রীতি বিলাক তারা পালিত মার্জারে,

দ্বারের কুক্কুরে আর পাণ্ডবভ্রাতারে—

তাহে মোর নাহি কাজ ৷ আমি চাহি ভয়,

সেই মোর রাজপ্রাপ্য— আমি চাহি জয়

দর্পিতের দর্প নাশি ৷ শুন নিবেদন

পিতৃদেব— এতকাল তব সিংহাসন

আমার নিন্দুকদল নিত্য ছিল ঘিরে

কণ্টকতরুর মতো নিষ্ঠুর প্রাচীরে

তোমার আমার মধ্যে রচি ব্যবধান;

শুনায়েছে পাণ্ডবের নিত্যগুণগান,

আমাদের নিত্যনিন্দা ৷ এইমতে, পিতঃ,

পিতৃস্নেহ হতে মোরা চিরনির্বাসিত ৷

এইমতে, পিতঃ, মোরা শিশুকাল হতে

হীনবল; উৎসমুখে পিতৃস্নেহস্রোতে

পাষাণের বাধা পড়ি মোরা পরিক্ষীণ

শীর্ণ নদ, নষ্টপ্রাণ, গতিশক্তিহীন,

পদে পদে প্রতিহত; পাণ্ডবেরা স্ফীত,

অখণ্ড, অবাধগতি ৷ অদ্য হতে, পিতঃ,

যদি সে নিন্দুকদলে নাহি কর দূর

সিংহাসনপার্শ্ব হতে, সঞ্জয় বিদুর

ভীষ্মপিতামহে— যদি তারা বিজ্ঞবেশে

হিতকথা ধর্মকথা সাধু-উপদেশে

নিন্দায় ধিক্কারে তর্কে নিমেষে নিমেষে

ছিন্ন ছিন্ন করি দেয় রাজকর্মডোর,

ভারাক্রান্ত করি রাখে রাজদণ্ড মোর,

পদে পদে দ্বিধা আনে রাজশক্তি-মাঝে,

মুকুট মলিন করে অপমানে লাজে,

তবে ক্ষমা দাও পিতৃদেব— নাহি কাজ

সিংহাসনকণ্টকশয়নে— মহারাজ,

বিনিময় করে লই পাণ্ডবের সনে

রাজ্য দিয়ে বনবাস, যাই নির্বাসনে ৷

ধৃতরাষ্ট্র ৷ হায় বৎস অভিমানী, পিতৃস্নেহ মোর

কিছু যদি হ্রাস হত শুনি সুকঠোর

সুহৃদের নিন্দাবাক্য— হইত কল্যাণ ৷

অধর্মে দিয়েছি যোগ, হারায়েছি জ্ঞান,

এত স্নেহ ৷ করিতেছি সর্বনাশ তোর,

এত স্নেহ ৷ জ্বালাতেছি কালানল ঘোর

পুরাতন কুরুবংশ-মহারণ্যতলে—

তবু, পুত্র, দোষ দিস স্নেহ নাই ব’লে?

মণিলোভে কালসর্প করিলি কামনা,

দিনু তোরে নিজহস্তে ধরি তার ফণা

অন্ধ আমি ৷— অন্ধ আমি অন্তরে বাহিরে

চিরদিন, তোরে লয়ে প্রলয়তিমিরে

চলিয়াছি; বন্ধুগণ হাহাকাররবে

করিছে নিষেধ; নিশাচর গৃধ্রসবে

করিতেছে অশুভ চীৎকার; পদে পদে

সংকীর্ণ হতেছে পথ; আসন্ন বিপদে

কণ্টকিত কলেবর; তবু দৃঢ় করে

ভয়ংকর স্নেহে বক্ষে বাঁধি লয়ে তোরে

বায়ুবলে অন্ধবেগে বিনাশের গ্রাসে

ছুটিয়া চলেছি মূঢ় মত্ত অট্টহাসে

উল্কার আলোকে ৷ শুধু তুমি আর আমি,

আর সঙ্গী বজ্রহস্ত দীপ্ত অন্তর্যামী—

নাই সম্মুখের দৃষ্টি, নাই নিবারণ

পশ্চাতের, শুধু নিম্নে ঘোর আকর্ষণ

নিদারুণ নিপাতের ৷ সহসা একদা

চকিতে চেতনা হবে, বিধাতার গদা

মুহূর্তে পড়িবে শিরে, আসিবে সময়—

ততক্ষণ পিতৃস্নেহে কোরো না সংশয়,

আলিঙ্গন কোরো না শিথিল; ততক্ষণ

দ্রুত হস্তে লুটি লও সর্ব স্বার্থধন;

হও জয়ী, হও সুখী, হও তুমি রাজা

একেশ্বর ৷— ওরে, তোরা জয়বাদ্য বাজা ৷

জয়ধ্বজা তোল শূন্যে ৷ আজি জয়োৎসবে

ন্যায় ধর্ম বন্ধু ভ্রাতা কেহ নাহি রবে;

না রবে বিদুর ভীষ্ম, না রবে সঞ্জয়,

নাহি রবে লোকনিন্দা লোকলজ্জা -ভয়,

কুরুবংশরাজলক্ষ্মী নাহি রবে আর—

শুধু রবে অন্ধ পিতা, অন্ধ পুত্র তার

আর কালান্তক যম— শুধু পিতৃস্নেহ

আর বিধাতার শাপ, আর নহে কেহ ৷

চরের প্রবেশ

চর ৷ মহারাজ, অগ্নিহোত্র দেব-উপাসনা

ত্যাগ করি বিপ্রগণ, ছাড়ি সন্ধ্যার্চনা,

দাঁড়ায়েছে চতুষ্পথে পাণ্ডবের তরে

প্রতীক্ষিয়া ৷ পৌরগণ কেহ নাহি ঘরে,

পণ্যশালা রুদ্ধ সব; সন্ধ্যা হল তবু

ভৈরবমন্দির-মাঝে নাহি বাজে, প্রভু,

শঙ্খঘণ্টা সন্ধ্যাভেরী, দীপ নাহি জ্বলে ৷

শোকাতুর নরনারী সবে দলে দলে

চলিয়াছে নগরের সিংহদ্বার-পানে

দীনবেশে সজলনয়নে ৷

দুর্যোধন ৷ নাহি জানে

জাগিয়াছে দুর্যোধন ৷ মূঢ় ভাগ্যহীন,

ঘনায়ে এসেছে আজি তোদের দুর্দিন ৷

রাজায় প্রজায় আজি হবে পরিচয়

ঘনিষ্ঠ কঠিন ৷ দেখি কতদিন রয়

প্রজার পরম স্পর্ধা— নির্বিষ সর্পের

ব্যর্থ ফণা-আস্ফালন, নিরস্ত্র দর্পের

হুহুংকার ৷

প্রতিহারীর প্রবেশ

প্রতিহারী ৷ মহারাজ, মহিষী গান্ধারী

দর্শনপ্রার্থিনী পদে ৷

ধৃতরাষ্ট্র ৷ রহিনু তাঁহারি

প্রতীক্ষায় ৷

দুর্যোধন ৷ পিতঃ, আমি চলিলাম তবে ৷ প্রস্থান

ধৃতরাষ্ট্র ৷ করো পলায়ন ৷ হায়, কেমনে বা সবে

সাধ্বী জননীর দৃষ্টি সমুদ্যত বাজ

ওরে পুণ্যভীত! মোরে তোর নাহি লাজ ৷

গান্ধারীর প্রবেশ

গান্ধারী ৷ নিবেদন আছে শ্রীচরণে ৷ অনুনয়

রক্ষা করো নাথ!

ধৃতরাষ্ট্র ৷ কভু কি অপূর্ণ রয়

প্রিয়ার প্রার্থনা!

গান্ধারী ৷ ত্যাগ করো এইবার—

ধৃতরাষ্ট্র ৷ কারে হে মহিষী!

গান্ধারী ৷ পাপের সংঘর্ষে যার

পড়িছে ভীষণ শাণ ধর্মের কৃপাণে,

সেই মূঢ়ে ৷

ধৃতরাষ্ট্র ৷ কে সে জন? আছে কোনখানে?

শুধু কহো নাম তার ৷

গান্ধারী ৷ পুত্র দুর্যোধন ৷

ধৃতরাষ্ট্র ৷ তাহারে করিব ত্যাগ?

গান্ধারী ৷ এই নিবেদন

তব পদে ৷

ধৃতরাষ্ট্র ৷ দারুণ প্রার্থনা, হে গান্ধারী

রাজমাতা!

গান্ধারী ৷ এ প্রার্থনা শুধু কি আমারি

হে কৌরব? কুরুকুলপিতৃপিতামহ

স্বর্গ হতে এ প্রার্থনা করে অহরহ

নরনাথ! ত্যাগ করো, ত্যাগ করো তারে—

কৌরবকল্যাণলক্ষ্মী যার অত্যাচারে

অশ্রুমুখী প্রতীক্ষিছে বিদায়ের ক্ষণ

রাত্রিদিন ৷

ধৃতরাষ্ট্র ৷ ধর্ম তারে করিবে শাসন

ধর্মেরে যে লঙঘন করেছে— আমি পিতা—

গান্ধারী ৷ মাতা আমি নহি? গর্ভভারজর্জরিতা

জাগ্রত হৃৎপিণ্ডতলে বহি নাই তারে?

স্নেহবিগলিত চিত্ত শুভ্র দুগ্ধধারে

উচ্ছ্বসিয়া উঠে নাই দুই স্তন বাহি

তার সেই অকলঙ্ক শিশুমুখ চাহি?

শাখাবন্ধে ফল যথা, সেইমত করি

বহু বর্ষ ছিল না সে আমারে আঁকড়ি

দুই ক্ষুদ্র বাহুবৃন্ত দিয়ে— লয়ে টানি

মোর হাসি হতে হাসি, বাণী হতে বাণী,

প্রাণ হতে প্রাণ? তবু কহি মহারাজ,

সেই পুত্র দুর্যোধনে ত্যাগ করো আজ ৷

ধৃতরাষ্ট্র ৷ কী রাখিব তারে ত্যাগ করি?

গান্ধারী ৷ ধর্ম তব ৷

ধৃতরাষ্ট্র ৷ কী দিবে তোমারে ধর্ম?

গান্ধারী ৷ দুঃখ নব নব ৷

পুত্রসুখ রাজ্যসুখ অধর্মের পণে

জিনি লয়ে চিরদিন বহিব কেমনে

দুই কাঁটা বক্ষে আলিঙ্গিয়া!

ধৃতরাষ্ট্র ৷ হায় প্রিয়ে,

ধর্মবশে একবার দিনু ফিরাইয়ে

দূ্যতবদ্ধ পাণ্ডবের হৃত রাজ্যধন ৷

পরক্ষণে পিতৃস্নেহ করিল গুঞ্জন

শতবার কর্ণে মোর, ‘কী করিলি ওরে!

এককালে ধর্মাধর্ম দুই তরী-’পরে

পা দিয়ে বাঁচে না কেহ ৷ বারেক যখন

নেমেছে পাপের স্রোতে কুরুপুত্রগণ

তখন ধর্মের সাথে সন্ধি করা মিছে—

পাপের দুয়ারে পাপ সহায় মাগিছে ৷

কী করিলি, হতভাগ্য, বৃদ্ধ, বুদ্ধিহত,

দুর্বল দ্বিধায় পড়ি! অপমানক্ষত

রাজ্য ফিরে দিলে তবু মিলাবে না আর

পাণ্ডবের মনে— শুধু নব কাষ্ঠভার

হুতাশনে দান ৷ অপমানিতের করে

ক্ষমতার অস্ত্র দেওয়া মরিবার তরে ৷

সক্ষমে দিয়ো না ছাড়ি দিয়ে স্বল্প পীড়া—

করহ দলন ৷ কোরো না বিফল ক্রীড়া

পাপের সহিত; যদি ডেকে আন তারে

বরণ করিয়া তবে লহো একেবারে ৷’

এইমত পাপবুদ্ধি পিতৃস্নেহরূপে

বিঁধিতে লাগিল মোর কর্ণে চুপে চুপে

কত কথা তীক্ষ্ণসূচিসম ৷ পুনরায়

ফিরানু পাণ্ডবগণে; দূ্যতছলনায়

বিসর্জিনু দীর্ঘ বনবাসে ৷ হায় ধর্ম!

হায় রে প্রবৃত্তিবেগ! কে বুঝিবে মর্ম

সংসারের!

গান্ধারী ৷ ধর্ম নহে সম্পদের হেতু

মহারাজ, নহে সে সুখের ক্ষুদ্র সেতু;

ধর্মেই ধর্মের শেষ ৷ মূঢ় নারী আমি,

ধর্মকথা তোমারে কী বুঝাইব স্বামী,

জান তো সকলি ৷ পাণ্ডবেরা যাবে বনে,

ফিরাইলে ফিরিবে না, বদ্ধ তারা পণে—

এখন এ মহারাজ্য একাকী তোমার

মহীপতি! পুত্রে তব ত্যজ এইবার—

নিষ্পাপেরে দুঃখ দিয়ে নিজে পূর্ণ সুখ

লইয়ো না ৷ ন্যায়ধর্মে কোরো না বিমুখ

পৌরবপ্রাসাদ হতে ৷ দুঃখ সুদুঃসহ

আজ হতে, ধর্মরাজ, লহো তুলি লহো,

দেহো তুলি মোর শিরে ৷

ধৃতরাষ্ট্র ৷ হায় মহারানী,

সত্য তব উপদেশ, তীব্র তব বাণী!

গান্ধারী ৷ অধর্মের মধুমাখা বিষফল তুলি

আনন্দে নাচিছে পুত্র; স্নেহমোহে ভুলি

সে ফল দিয়ো না তারে ভোগ করিবারে—

কেড়ে লও, ফেলে দাও, কাঁদাও তাহারে ৷

ছললব্ধ পাপস্ফীত রাজ্যধনজনে

ফেলে রাখি সেও চলে যাক নির্বাসনে—

বঞ্চিত পাণ্ডবদের সমদুঃখভার

করুক বহন ৷

ধৃতরাষ্ট্র ৷ ধর্মবিধি বিধাতার—

জাগ্রত আছেন তিনি, ধর্মদণ্ড তাঁর

রয়েছে উদ্যত নিত্য; অয়ি মনস্বিনী,

তাঁর রাজ্যে তাঁর কার্য করিবেন তিনি ৷

আমি পিতা—

গান্ধারী ৷ তুমি রাজা, রাজ-অধিরাজ,

বিধাতার বামহস্ত; ধর্মরক্ষা কাজ

তোমা-’পরে সমর্পিত ৷— শুধাই তোমারে,

যদি কোনো প্রজা তব, সতী অবলারে

পরগৃহ হতে টানি করে অপমান

বিনা দোষে— কী তাহার করিবে বিধান?

ধৃতরাষ্ট্র ৷ নির্বাসন ৷

গান্ধারী ৷ তবে আজ রাজপদতলে

সমস্ত নারীর হয়ে নয়নের জলে

বিচার প্রার্থনা করি ৷ পুত্র দুর্যোধন

অপরাধী প্রভু! তুমি আছ, হে রাজন,

প্রমাণ আপনি ৷ পুরুষে পুরুষে দ্বন্দ্ব

স্বার্থ লয়ে বাধে অহরহ; ভালোমন্দ

নাহি বুঝি তার; দণ্ডনীতি, ভেদনীতি,

কূটনীতি কত শত— পুরুষের রীতি

পুরুষেই জানে! বলের বিরোধে বল,

ছলের বিরোধে কত জেগে উঠে ছল,

কৌশলে কৌশল হানে; মোরা থাকি দূরে

আপনার গৃহকর্মে শান্ত অন্তঃপুরে ৷

যে সেথা টানিয়া আনে বিদ্বেষ-অনল

বাহিরের দ্বন্দ্ব হতে— পুরুষেরে ছাড়ি

অন্তঃপুরে প্রবেশিয়া নিরুপায় নারী

গৃহধর্মচারিণীর পুণ্যদেহ-’পরে

কলুষপরুষ স্পর্শে অসম্মানে করে

হস্তক্ষেপ— পতি-সাথে বাধায়ে বিরোধ

যে নর পত্নীরে হানি লয় তার শোধ—

সে শুধু পাষণ্ড নহে, সে যে কাপুরুষ ৷

মহারাজ, কী তার বিধান! অকলুষ

পুরুবংশে পাপ যদি জন্মলাভ করে

সেও সহে ৷ কিন্তু, প্রভু, মাতৃগর্বভরে

ভেবেছিনু গর্ভে মোর বীরপুত্রগণ

জন্মিয়াছে ৷ হায় নাথ, সেদিন যখন

অনাথিনী পাঞ্চালীর আর্তকণ্ঠরব

প্রাসাদপাষাণভিত্তি করি দিল দ্রব

লজ্জা ঘৃণা করুণার তাপে, ছুটি গিয়া

হেরিনু গবাক্ষে, তার বস্ত্র আকর্ষিয়া

খলখল হাসিতেছে সভা-মাঝখানে

গান্ধারীর পুত্র-পিশাচেরা— ধর্ম জানে

সেদিন চূর্ণিয়া গেল জন্মের মতন

জননীর শেষ গর্ব ৷ কুরুরাজগণ,

পৌরুষ কোথায় গেছে ছাড়িয়া ভারত!

তোমরা, হে মহারথী, জড়মূর্তিবৎ

বসিয়া রহিলে সেথা চাহি মুখে মুখে;

কেহ বা হাসিলে, কেহ করিলে কৌতুকে

কানাকানি— কোষ-মাঝে নিশ্চল কৃপাণ

বজ্রনিঃশেষিত লুপ্তবিদ্যুৎ -সমান

নিদ্রাগত ৷ মহারাজ, শুন মহারাজ,

এ মিনতি— দূর করো জননীর লাজ;

বীরধর্ম করহ উদ্ধার; পদাহত

সতীত্বের ঘুচাও ক্রন্দন; অবনত

ন্যায়ধর্মে করহ সম্মান— ত্যাগ করো

দুর্যোধনে ৷

ধৃতরাষ্ট্র ৷ পরিতাপদহনে-জর্জর

হৃদয়ে করিছ শুধু নিষ্ফল আঘাত

হে মহিষী!

গান্ধারী ৷ শতগুণ বেদনা কি, নাথ,

লাগিছে না মোরে? প্রভু, দণ্ডিতের সাথে

দণ্ডদাতা কাঁদে যবে সমান আঘাতে

সর্বশ্রেষ্ঠ সে বিচার ৷ যার তরে প্রাণ

কোনো ব্যথা নাহি পায় তারে দণ্ডদান

প্রবলের অত্যাচার ৷ যে দণ্ডবেদনা

পুত্রেরে পার না দিতে সে কারে দিয়ো না;

যে তোমার পুত্র নহে তারো পিতা আছে,

মহা অপরাধী হবে তুমি তার কাছে

বিচারক! শুনিয়াছি বিশ্ববিধাতার

সবাই সন্তান মোরা, পুত্রের বিচার

নিয়ত করেন তিনি আপনার হাতে

নারায়ণ— ব্যথা দেন, ব্যথা পান সাথে,

নতুবা বিচারে তাঁর নাই অধিকার,

মূঢ় নারী লভিয়াছি অন্তরে আমার

এই শাস্ত্র ৷ পাপী পুত্রে ক্ষমা কর যদি

নির্বিচারে, মহারাজ, তবে নিরবধি

যত দণ্ড দিলে তুমি যত দোষীজনে

ফিরিয়া লাগিবে আসি দণ্ডদাতা ভূপে—

ন্যায়ের বিচার তব নির্মমতারূপে

পাপ হয়ে তোমারে দাগিবে ৷ ত্যাগ করো

পাপী দুর্যোধনে ৷

ধৃতরাষ্ট্র ৷ প্রিয়ে, সংহর, সংহর

তব বাণী ৷ ছিঁড়িতে পারি নে মোহডোর,

ধর্মকথা শুধু আসি হানে সুকঠোর

ব্যর্থ ব্যথা ৷ পাপী পুত্র ত্যাজ্য বিধাতার,

তাই তারে ত্যজিতে না পারি— আমি তার

একমাত্র ৷ উন্মত্ততরঙ্গ-মাঝখানে

যে পুত্র সঁপেছে অঙ্গ, তারে কোন প্রাণে

ছাড়ি যাব? উদ্ধারের আশা ত্যাগ করি

তবু তারে প্রাণপণে বক্ষে চাপি ধরি—

তারি সাথে এক পাপে ঝাঁপ দিয়া পড়ি,

এক বিনাশের তলে তলাইয়া মরি

অকাতরে, অংশ লই তার দুর্গতির,

অর্ধফল ভোগ করি তার দুর্মতির—

সেই তো সান্ত্বনা মোর ৷ এখন তো আর

বিচারের কাল নাই, নাই প্রতিকার,

নাই পথ— ঘটেছে যা ছিল ঘটিবার,

ফলিবে যা ফলিবার আছে ৷ প্রস্থান

গান্ধারী ৷ হে আমার

অশান্ত হৃদয়, স্থির হও ৷ নতশিরে

প্রতীক্ষা করিয়া থাকো বিধির বিধিরে

ধৈর্য ধরি ৷ যেদিন সুদীর্ঘ রাত্রি-পরে

সদ্য জেগে উঠে কাল সংশোধন করে

আপনারে, সেদিন দারুণ দুঃখদিন ৷

দুঃসহ উত্তাপে যথা স্থির গতিহীন

ঘুমাইয়া পড়ে বায়ু— জাগে ঝঞ্ঝাঝড়ে

অকস্মাৎ, আপনার জড়ত্বের ’পরে

করে আক্রমণ, অন্ধ বৃশ্চিকের মতো

ভীমপুচ্ছে আত্মশিরে হানে অবিরত

দীপ্ত বজ্রশূল— সেইমত কাল যবে

জাগে, তারে সভয়ে অকাল কহে সবে ৷

লুটাও লুটাও শির, প্রণম, রমণী,

সেই মহাকালে; তার রথচক্রধ্বনি

দূর রুদ্রলোক হতে বজ্রঘর্ঘরিত

ওই শুনা যায় ৷ তোর আর্ত জর্জরিত

হৃদয় পাতিয়া রাখ তার পথতলে ৷

ছিন্ন সিক্ত হৃৎপিণ্ডের রক্ত শতদলে

অঞ্জলি রচিয়া থাক জাগিয়া নীরবে

চাহিয়া নিমেষহীন ৷ তার পরে যবে

গগনে উড়িবে ধূলি, কাঁপিবে ধরণী,

সহসা উঠিবে শূন্যে ক্রন্দনের ধ্বনি—

হায় হায় হা রমণী, হায় রে অনাথা,

হায় হায় বীরবধূ, হায় বীরমাতা,

হায় হায় হাহাকার— তখন সুধীরে

ধুলায় পড়িস লুটি অবনতশিরে

মুদিয়া নয়ন ৷ তার পরে নমো নম

সুনিশ্চিত পরিণাম, নির্বাক নির্মম

দারুণ করুণ শান্তি ; নমো নমো নম

কল্যাণ কঠোর কান্ত, ক্ষমা স্নিগ্ধতম ৷

নমো নমো বিদ্বেষের ভীষণা নিরবৃতি—

শ্মশানের-ভস্ম-মাখা পরমা নিষ্কৃতি ৷

দুর্যোধনমহিষী ভানুমতীর প্রবেশ

দাসীগণের প্রতি

ভানুমতী ৷ ইন্দুমুখি! পরভৃতে! লহো তুলি শিরে

মাল্যবস্ত্র অলংকার ৷

গান্ধারী ৷ বৎসে, ধীরে! ধীরে!

পৌরবভবনে কোন মহোৎসব আজি!

কোথা যাও নব বস্ত্র-অলংকারে সাজি

বধূ মোর?

ভানুমতী ৷ শত্রুপরাভবশুভক্ষণ

সমাগত ৷

গান্ধারী ৷ শত্রু যার আত্মীয়স্বজন

আত্মা তার নিত্য শত্রু, ধর্ম শত্রু তার,

অজেয় তাহার শত্রু ৷ নব অলংকার

কোথা হতে হে কল্যাণী?

ভানুমতী ৷ জিনি বসুমতী

ভুজবলে, পাঞ্চালীরে তার পঞ্চপতি

দিয়েছিল যত রত্ন মণি অলংকার,

যজ্ঞদিনে যাহা পরি ভাগ্য-অহংকার

ঠিকরিত মাণিক্যের শত সূচীমুখে

দ্রৌপদীর অঙ্গ হতে, বিদ্ধ হত বুকে

কুরুকুলকামিনীর, সে রত্নভূষণে

আমারে সাজায়ে তারে যেতে হল বনে ৷

গান্ধারী ৷ হা রে মূঢ়ে, শিক্ষা তবু হল না তোমার—

সেই রত্ন নিয়ে তবু এত অহংকার!

এ কি ভয়ংকরী কান্তি, প্রলয়ের সাজ!

যুগান্তের উল্কা:-সম দহিছে না আজ

এ মণিমঞ্জীর তোরে! রত্নললাটিকা

এ যে তোর সৌভাগ্যের বজ্রানলশিখা ৷

তোরে হেরি অঙ্গে মোর ত্রাসের স্পন্দন

সঞ্চারিছে, চিত্তে মোর উঠিছে ক্রন্দন—

আনিছে শঙ্কিত কর্ণে তোর অলংকার

উন্মাদিনী শংকরীর তাণ্ডবঝংকার ৷

ভানুমতী ৷ মাতঃ, মোরা ক্ষত্রনারী, দুর্ভাগ্যের ভয়

নাহি করি ৷ কভু জয়, কভু পরাজয়—

মধ্যাহ্নগগনে কভু, কভু অস্তধামে,

ক্ষত্রিয়মহিমাসূর্য উঠে আর নামে ৷

ক্ষত্রবীরাঙ্গনা, মাতঃ, সেই কথা স্মরি

শঙ্কার বক্ষেতে থাকি সংকটে না ডরি

ক্ষণকাল ৷ দুর্দিন দুর্যোগ যদি আসে

বিমুখ ভাগ্যেরে তবে হানি উপহাসে

কেমনে মরিতে হয় জানি তাহা দেবী,

কেমনে বাঁচিতে হয় শ্রীচরণ সেবি

সে শিক্ষাও লভিয়াছি ৷

গান্ধারী ৷ বৎসে, অমঙ্গল

একেলা তোমার নহে ৷ লয়ে দলবল

সে যবে মিটায় ক্ষুধা, উঠে হাহাকার,

কত বীররক্তস্রোতে কত বিধবার

অশ্রুধারা পড়ে আসি— রত্ন-অলংকার

বধূহস্ত হতে খসি পড়ে শত শত

চূতলতাকুঞ্জবনে মঞ্জরীর মতো

ঝঞ্ঝাবাতে! বৎসে, ভাঙিয়ো না বদ্ধ সেতু ৷

ক্রীড়াচ্ছলে তুলিয়ো না বিপ্লবের কেতু

গৃহ-মাঝে ৷ আনন্দের দিন নহে আজি ৷

স্বজনদুর্ভাগ্য লয়ে সর্ব অঙ্গে সাজি

গর্ব করিয়ো না মাতঃ! হয়ে সুসংযত

আজ হতে শুদ্ধচিত্তে উপবাসব্রত

করো আচরণ; বেণী করি উন্মোচন

শান্ত মনে করো, বৎসে, দেবতা-অর্চন ৷

এ পাপসৌভাগ্যদিনে গর্ব-অহংকারে

প্রতিক্ষণে লজ্জা দিয়ো নাকো বিধাতারে ৷

খুলে ফেলো অলংকার, নব রক্তাম্বর;

থামাও উৎসববাদ্য, রাজ-আড়ম্বর;

অগ্নিগৃহে যাও পুত্রী, ডাকো পুরোহিতে—

কালের প্রতীক্ষা করো শুদ্ধসত্ব-চিতে ৷

ভানুমতীর প্রস্থান

দ্রৌপদীসহ পঞ্চপাণ্ডবের প্রবেশ

যুধিষ্ঠির ৷ আশীর্বাদ মাগিবারে এসেছি, জননী,

বিদায়ের কালে ৷

গান্ধারী ৷ সৌভাগ্যের দিনমণি

দুঃখরাত্রি অবসানে দ্বিগুণ উজ্জ্বল

উদিবে হে বৎসগণ! বায়ু হতে বল,

সূর্য হতে তেজ, পৃথ্বী হতে ধৈর্যক্ষমা

করো লাভ দুঃখব্রত পুত্র মোর! রমা

দৈন্য-মাঝে গুপ্ত থাকি দীন ছদ্মরূপে

ফিরুন পশ্চাতে তব; সদা চুপে চুপে

দুঃখ হতে তোমা-তরে করুন সঞ্চয়

অক্ষয় সম্পদ ৷ নিত্য হউক নির্ভয়

নির্বাসনবাস ৷ বিনা পাপে দুঃখভোগ

অন্তরে জ্বলন্ত তেজ করুক সংযোগ

বহ্নিশিখাদগ্ধ দীপ্ত সুবর্ণের প্রায় ৷

সেই মহাদুঃখ হবে মহৎ সহায়

তোমাদের ৷ সেই দুঃখে রহিবেন ঋণী

ধর্মরাজ বিধি; যবে শুধিবেন তিনি

নিজহস্তে আত্মঋণ তখন জগতে

দেব নর কে দাঁড়াবে তোমাদের পথে!

মোর পুত্র করিয়াছে যত অপরাধ

খণ্ডন করুক সব মোর আশীর্বাদ

পুত্রাধিক পুত্রগণ! অন্যায় পীড়ন

গভীর কল্যাণসিন্ধু করুক মন্থন ৷

দ্রৌপদীকে আলিঙ্গন-পূর্বক

ভূলুন্ঠিতা স্বর্ণলতা, হে বৎসে আমার,

হে আমার রাহুগ্রস্ত শশী, একবার

তোলো শির, বাক্য মোর করো অবধান ৷

যে তোমারে অবমানে তারি অপমান

জগতে রহিবে নিত্য— কলঙ্ক অক্ষয় ৷

তব অপমানরাশি বিশ্বজগন্ময়

ভাগ করে লইয়াছে সর্ব কুলাঙ্গনা—

কাপুরুষতার হস্তে সতীর লাঞ্ছনা ৷

যাও বৎসে, পতি-সাথে অমলিনমুখ,

অরণ্যেরে করো স্বর্গ, দুঃখে করো সুখ ৷

বধূ মোর, সুদুঃসহ পতিদুঃখব্যথা

বক্ষে ধরি সতীত্বের লভো সার্থকতা ৷

রাজগৃহে আয়োজন দিবসযামিনী

সহস্র সুখের; বনে তুমি একাকিনী

সর্বসুখ, সর্বসঙ্গ, সবৈশ্বির্যময়,

সকল সান্ত্বনা একা, সকল আশ্রয়—

ক্লান্তির আরাম, শান্তি, ব্যাধির শুশ্রূষা,

দুর্দিনের শুভলক্ষ্মী, তামসীর ভূষা

উষা মূর্তিমতী ৷ তুমি হবে একাকিনী

সর্বপ্রীতি, সর্বসেবা, জননী, গেহিনী—

সতীত্বের শ্বেতপদ্ম সম্পূর্ণ সৌরভে

শতদলে প্রস্ফুটিয়া জাগিবে গৌরবে ৷ ৷

[ মাঘ/১৩০৪]

সকল অধ্যায়
১.
মরণ
২.
প্রশ্ন
৩.
সন্ধ্যাসংগীত
৪.
দৃষ্টি
৫.
প্রভাতসংগীত
৬.
সৃষ্টি স্থিতি প্রলয়
৭.
নির্ঝরের স্বপ্নভঙ্গ
৮.
প্রভাত-উৎসব
৯.
ছবি ও গান
১০.
রাহুর প্রেম
১১.
কড়ি ও কোমল
১২.
প্রাণ
১৩.
পুরাতন
১৪.
নূতন
১৫.
বিষ্টি পড়ে টাপুর টুপুর
১৬.
গীতোচ্ছ্বাস
১৭.
চুম্বন
১৮.
বাহু
১৯.
চরণ
২০.
হৃদয়-আকাশ
২১.
স্মৃতি
২২.
হৃদয়-আসন
২৩.
বন্দী
২৪.
কেন
২৫.
মোহ
২৬.
মরীচিকা
২৭.
মানসী
২৮.
ভুলে
২৯.
ভুল-ভাঙা
৩০.
বিরহানন্দ
৩১.
সিন্ধুতরঙ্গ
৩২.
নিষ্ফল কামনা
৩৩.
নারীর উক্তি
৩৪.
পুরুষের উক্তি
৩৫.
বধূ
৩৬.
ব্যক্ত প্রেম
৩৭.
গুপ্ত প্রেম
৩৮.
অপেক্ষা
৩৯.
সুরদাসের প্রার্থনা
৪০.
ভৈরবী গান
৪১.
বর্ষার দিনে
৪২.
অনন্ত প্রেম
৪৩.
ক্ষণিক মিলন
৪৪.
ভালো করে বলে যাও
৪৫.
মেঘদূত
৪৬.
অহল্যার প্রতি
৪৭.
আমার সুখ
৪৮.
সোনার তরী
৪৯.
সোনার তরী
৫০.
নিদ্রিতা
৫১.
সুপ্তোত্থিতা
৫২.
হিং টিং ছট
৫৩.
পরশপাথর
৫৪.
দুই পাখি
৫৫.
গানভঙ্গ
৫৬.
যেতে নাহি দিব
৫৭.
মানসসুন্দরী
৫৮.
দুর্বোধ
৫৯.
ঝুলন
৬০.
সমুদ্রের প্রতি
৬১.
হৃদয়যমুনা
৬২.
ব্যর্থ যৌবন
৬৩.
প্রত্যাখ্যান
৬৪.
লজ্জা
৬৫.
পুরস্কার
৬৬.
বসুন্ধরা
৬৭.
নিরুদ্দেশ যাত্রা
৬৮.
বিদায় অভিশাপ
৬৯.
বিদায়-অভিশাপ
৭০.
চিত্রা
৭১.
সুখ
৭২.
প্রেমের অভিষেক
৭৩.
এবার ফিরাও মোরে
৭৪.
মৃত্যুর পরে
৭৫.
সাধনা
৭৬.
ব্রাহ্মণ
৭৭.
পুরাতন ভৃত্য
৭৮.
দুই বিঘা জমি
৭৯.
নগরসংগীত
৮০.
চিত্রা
৮১.
আবেদন
৮২.
উর্বশী
৮৩.
স্বর্গ হইতে বিদায়
৮৪.
দিনশেষে
৮৫.
সান্ত্বনা
৮৬.
বিজয়িনী
৮৭.
জীবনদেবতা
৮৮.
রাত্রে ও প্রভাতে
৮৯.
১৪০০ সাল
৯০.
সিন্ধুপারে
৯১.
চৈতালি
৯২.
উৎসর্গ
৯৩.
বৈরাগ্য
৯৪.
মধ্যাহ্ন
৯৫.
দুর্লভ জন্ম
৯৬.
খেয়া
৯৭.
ঋতুসংহার
৯৮.
মেঘদূত
৯৯.
দিদি
১০০.
পরিচয়
১০১.
ক্ষণমিলন
১০২.
সঙ্গী
১০৩.
করুণা
১০৪.
স্নেহগ্রাস
১০৫.
বঙ্গমাতা
১০৬.
মানসী
১০৭.
মৌন
১০৮.
অসময়
১০৯.
কুমারসম্ভবগান
১১০.
মানসলোক
১১১.
কাব্য
১১২.
কণিকা
১১৩.
হাতে-কলমে
১১৪.
গৃহভেদ
১১৫.
গরজের আত্মীয়তা
১১৬.
কুটুম্বিতা
১১৭.
উদারচরিতানাম
১১৮.
অসম্ভব ভালো
১১৯.
প্রত্যক্ষ প্রমাণ
১২০.
ভক্তিভাজন
১২১.
উপকারদম্ভ
১২২.
সন্দেহের কারণ
১২৩.
অকৃতজ্ঞ
১২৪.
নিজের ও সাধারণের
১২৫.
মাঝারির সতর্কতা
১২৬.
নতিস্বীকার
১২৭.
কর্তব্যগ্রহণ
১২৮.
ধ্রুবাণি তস্য নশ্যন্তি
১২৯.
মোহ
১৩০.
ফুল ও ফল
১৩১.
প্রশ্নের অতীত
১৩২.
মোহের আশঙ্কা
১৩৩.
চালক
১৩৪.
এক পরিণাম
১৩৫.
কল্পনা
১৩৬.
দুঃসময়
১৩৭.
বর্ষামঙ্গল
১৩৮.
ভ্রষ্ট লগ্ন
১৩৯.
মার্জনা
১৪০.
স্বপ্ন
১৪১.
মদনভস্মের পূর্বে
১৪২.
মদনভস্মের পর
১৪৩.
প্রণয়প্রশ্ন
১৪৪.
জুতা-আবিষ্কার
১৪৫.
হতভাগ্যের গান
১৪৬.
বিদায়
১৪৭.
বর্ষশেষ
১৪৮.
অশেষ
১৪৯.
ঝড়ের দিনে
১৫০.
বসন্ত
১৫১.
ভগ্ন মন্দির
১৫২.
বৈশাখ
১৫৩.
কথা
১৫৪.
দেবতার গ্রাস
১৫৫.
পূজারিনি
১৫৬.
অভিসার
১৫৭.
পরিশোধ
১৫৮.
বিসর্জন
১৫৯.
বন্দী বীর
১৬০.
হোরিখেলা
১৬১.
পণরক্ষা
১৬২.
কাহিনী
১৬৩.
নরকবাস
১৬৪.
গান্ধারীর আবেদন
১৬৫.
কর্ণকুন্তীসংবাদ
১৬৬.
ক্ষণিকা
১৬৭.
উদবোধন
১৬৮.
যথাস্থান
১৬৯.
কবির বয়স
১৭০.
সেকাল
১৭১.
জন্মান্তর
১৭২.
বাণিজ্যে বসতে লক্ষ্মীঃ
১৭৩.
সোজাসুজি
১৭৪.
যাত্রী
১৭৫.
এক গাঁয়ে
১৭৬.
উদাসীন
১৭৭.
আষাঢ়
১৭৮.
নববর্ষা
১৭৯.
অকালে
১৮০.
বিলম্বিত
১৮১.
মেঘমুক্ত
১৮২.
চিরায়মানা
১৮৩.
কল্যাণী
১৮৪.
অবিনয়
১৮৫.
কৃষ্ণকলি
১৮৬.
আবির্ভাব
১৮৭.
নৈবেদ্য
১৮৮.
জনারণ্য
১৮৯.
স্তব্ধতা
১৯০.
সফলতা
১৯১.
প্রাণ
১৯২.
দেহলীলা
১৯৩.
মুক্তি
১৯৪.
অজ্ঞাতে
১৯৫.
অপরাহ্নে
১৯৬.
প্রতীক্ষা
১৯৭.
অপ্রমত্ত
১৯৮.
দীক্ষা
১৯৯.
ত্রাণ
২০০.
ন্যায়দণ্ড
২০১.
প্রার্থনা
২০২.
নীড় ও আকাশ
২০৩.
জন্ম
২০৪.
মৃত্যু
২০৫.
নিবেদন
২০৬.
স্মরণ
২০৭.
অতিথি
২০৮.
প্রতিনিধি
২০৯.
উদবোধন
২১০.
একাকী
২১১.
রমণী
২১২.
শিশু
২১৩.
খেলা
২১৪.
কেন মধুর
২১৫.
লুকোচুরি
২১৬.
বীরপুরুষ
২১৭.
জন্মকথা
২১৮.
বিদায়
২১৯.
পরিচয়
২২০.
উপহার
২২১.
উৎসর্গ
২২২.
প্রচ্ছন্ন
২২৩.
ছল
২২৪.
চেনা
২২৫.
মরীচিকা
২২৬.
আমি চঞ্চল হে
২২৭.
প্রসাদ
২২৮.
প্রবাসী
২২৯.
আবর্তন
২৩০.
অতীত
২৩১.
নব বেশ
২৩২.
মরণমিলন
২৩৩.
জন্ম ও মরণ
২৩৪.
সাময়িক পত্র
২৩৫.
শিবাজি-উৎসব
২৩৬.
সুপ্রভাত
২৩৭.
নমস্কার
২৩৮.
খেয়া
২৩৯.
শুভক্ষণ
২৪০.
বালিকা বধূ
২৪১.
অনাবশ্যক
২৪২.
আগমন
২৪৩.
দান
২৪৪.
কৃপণ
২৪৫.
কুয়ার ধারে
২৪৬.
দিনশেষ
২৪৭.
প্রতীক্ষা
২৪৮.
দিঘি
২৪৯.
প্রচ্ছন্ন
২৫০.
গীতাঞ্জলি
২৫১.
আত্মত্রাণ
২৫২.
আষাঢ়সন্ধ্যা
২৫৩.
বেলাশেষে
২৫৪.
অরূপরতন
২৫৫.
স্বপ্নে
২৫৬.
সহযাত্রী
২৫৭.
বর্ষার রূপ
২৫৮.
প্রতিসৃষ্টি
২৫৯.
ভারততীর্থ
২৬০.
দীনের সঙ্গী
২৬১.
অপমানিত
২৬২.
ধুলামন্দির
২৬৩.
সীমায় প্রকাশ
২৬৪.
যাবার দিন
২৬৫.
অসমাপ্ত
২৬৬.
শেষ নমস্কার
২৬৭.
গীতিমাল্য
২৬৮.
পথ-চাওয়া
২৬৯.
ভাসান
২৭০.
খড়গ
২৭১.
চরম মূল্য
২৭২.
সুর
২৭৩.
দিনান্ত
২৭৪.
ব্যর্থ
২৭৫.
সার্থক বেদনা
২৭৬.
উপহার
২৭৭.
গানের পারে
২৭৮.
নিঃসংশয়
২৭৯.
সুরের আগুন
২৮০.
গানের টান
২৮১.
অতিথি
২৮২.
দেহ
২৮৩.
নিবেদন
২৮৪.
সুন্দর
২৮৫.
আলোকধেনু
২৮৬.
গীতালি
২৮৭.
পরশমণি
২৮৮.
শরণ্ময়ী
২৮৯.
মোহন মৃত্যু
২৯০.
শারদা
২৯১.
জয়
২৯২.
ক্লান্তি
২৯৩.
পথিক
২৯৪.
পুনরাবর্তন
২৯৫.
সুপ্রভাত
২৯৬.
পথের গান
২৯৭.
সাথি
২৯৮.
জ্যোতি
২৯৯.
কলিকা
৩০০.
অঞ্জলি
৩০১.
বলাকা
৩০২.
সবুজের অভিযান
৩০৩.
শঙ্খ
৩০৪.
ছবি
৩০৫.
শা-জাহান
৩০৬.
চঞ্চলা
৩০৭.
দান
৩০৮.
বলাকা
৩০৯.
পলাতকা
৩১০.
মুক্তি
৩১১.
ফাঁকি
৩১২.
নিষ্কৃতি
৩১৩.
হারিয়ে যাওয়া
৩১৪.
ঠাকুরদাদার ছুটি
৩১৫.
শিশু ভোলানাথ
৩১৬.
মনে-পড়া
৩১৭.
খেলাভোলা
৩১৮.
ইচ্ছামতী
৩১৯.
তালগাছ
৩২০.
অন্য মা
৩২১.
পূরবী
৩২২.
সত্যেন্দ্রনাথ দত্ত
৩২৩.
তপোভঙ্গ
৩২৪.
লীলাসঙ্গিনী
৩২৫.
সাবিত্রী
৩২৬.
আহবান
৩২৭.
ক্ষণিকা
৩২৮.
খেলা
৩২৯.
কৃতজ্ঞ
৩৩০.
দান
৩৩১.
অতিথি
৩৩২.
শেষ বসন্ত
৩৩৩.
বনবাণী
৩৩৪.
বসন্ত
৩৩৫.
বৃক্ষবন্দনা
৩৩৬.
কুটিরবাসী
৩৩৭.
নীলমণিলতা
৩৩৮.
উদবোধন
৩৩৯.
মহুয়া
৩৪০.
শেষ মধু
৩৪১.
সাগরিকা
৩৪২.
বোধন
৩৪৩.
পথের বাঁধন
৩৪৪.
অসমাপ্ত
৩৪৫.
নির্ভয়
৩৪৬.
পরিচয়
৩৪৭.
দায়মোচন
৩৪৮.
সবলা
৩৪৯.
নববধূ
৩৫০.
মিলন
৩৫১.
প্রত্যাগত
৩৫২.
বিচিত্রিতা
৩৫৩.
ছায়াসঙ্গিনী
৩৫৪.
পসারিনি
৩৫৫.
পুষ্প
৩৫৬.
যাত্রা
৩৫৭.
দ্বিধা
৩৫৮.
পরিশেষ
৩৫৯.
প্রণাম
৩৬০.
প্রশ্ন
৩৬১.
পত্রলেখা
৩৬২.
মৃত্যুঞ্জয়
৩৬৩.
বাঁশি
৩৬৪.
জলপাত্র
৩৬৫.
পুনশ্চ
৩৬৬.
পুকুর-ধারে
৩৬৭.
ক্যামেলিয়া
৩৬৮.
ছেলেটা
৩৬৯.
সাধারণ মেয়ে
৩৭০.
খোয়াই
৩৭১.
শেষ চিঠি
৩৭২.
ছুটির আয়োজন
৩৭৩.
বীথিকা
৩৭৪.
পাঠিকা
৩৭৫.
ভুল
৩৭৬.
উদাসীন
৩৭৭.
নিমন্ত্রণ
৩৭৮.
শেষ সপ্তক
৩৭৯.
আমার ফুলবাগানের ফুলগুলিকে
৩৮০.
তুমি প্রভাতের শুকতারা
৩৮১.
পিলসুজের উপর পিতলের প্রদীপ
৩৮২.
পঁচিশে বৈশাখ
৩৮৩.
পত্রপুট
৩৮৪.
পৃথিবী
৩৮৫.
উদাসীন
৩৮৬.
তোমার অন্যযুগের সখা
৩৮৭.
শ্যামলী
৩৮৮.
আমি
৩৮৯.
বাঁশিওয়ালা
৩৯০.
হঠাৎ-দেখা
৩৯১.
সাময়িক পত্র
৩৯২.
আফ্রিকা
৩৯৩.
সংযোজন ১
৩৯৪.
গীতবিতান
৩৯৫.
ভারতবিধাতা
৩৯৬.
চির-আমি
৩৯৭.
ছিল যে পরানের অন্ধকারে
৩৯৮.
যে কাঁদনে হিয়া কাঁদিছে
৩৯৯.
সে যে বাহির হল আমি জানি
৪০০.
তোমায় কিছু দেব ব’লে
৪০১.
আমি তারেই খুঁজে বেড়াই
৪০২.
আমি কান পেতে রই
৪০৩.
ওই মরণের সাগর-পারে
৪০৪.
দিন যদি হল অবসান
৪০৫.
আমার একটি কথা বাঁশি জানে
৪০৬.
সে কোন বনের হরিণ
৪০৭.
কান্নাহাসির-দোল-দোলানো
৪০৮.
মধুর, তোমার শেষ যে না পাই
৪০৯.
চাহিয়া দেখো রসের স্রোতে স্রোতে
৪১০.
আমার না-বলা বাণীর ঘন যামিনীর মাঝে
৪১১.
বেদনা কী ভাষায় রে
৪১২.
বেদনায় ভরে গিয়েছে পেয়ালা
৪১৩.
তার বিদায়বেলার মালাখানি
৪১৪.
‘ভালোবাসি ভালোবাসি’
৪১৫.
যখন এসেছিলে অন্ধকারে
৪১৬.
কার চোখের চাওয়ার হাওয়ায়
৪১৭.
সকরুণ বেণু বাজায়ে কে যায়
৪১৮.
স্বপনে দোঁহে ছিনু কী মোহে
৪১৯.
সুনীল সাগরের শ্যামল কিনারে
৪২০.
চাঁদের হাসির বাঁধ ভেঙেছে
৪২১.
আমারে ডাক দিল কে
৪২২.
শিউলি ফোটা ফুরোলো যেই
৪২৩.
যেদিন সকল মুকুল গেল ঝরে
৪২৪.
ওহে সুন্দর, মরি মরি
৪২৫.
কার যেন এই মনের বেদন
৪২৬.
পূর্ণচাঁদের মায়ায় আজি
৪২৭.
দে পড়ে দে আমায় তোরা
৪২৮.
কেন রে এতই যাবার ত্বরা
৪২৯.
চরণরেখা তব
৪৩০.
দারুণ অগ্নিবাণে
৪৩১.
আমার দিন ফুরালো
৪৩২.
ওগো আমার শ্রাবণ-মেঘের
৪৩৩.
ধরণী, দূরে চেয়ে
৪৩৪.
জানি, হল যাবার আয়োজন
৪৩৫.
নীল অঞ্জনঘন পুঞ্জছায়ায়
৪৩৬.
পাগলা হাওয়ার বাদল-দিনে
৪৩৭.
লেখন
৪৩৮.
স্বপ্ন আমার জোনাকি
৪৩৯.
ঘুমের আঁধার কোটরের তলে
৪৪০.
আঁধার সে যেন বিরহিণী বধূ
৪৪১.
আকাশের নীল
৪৪২.
দিনের রৌদ্রে আবৃত বেদনা
৪৪৩.
নিভৃত প্রাণের নিবিড় ছায়ায়
৪৪৪.
অতল আঁধার নিশাপারাবার
৪৪৫.
দুই তীরে তার বিরহ ঘটায়ে
৪৪৬.
স্ফুলিঙ্গ তার পাখায় পেল
৪৪৭.
সুন্দরী ছায়ার পানে
৪৪৮.
আমার প্রেম রবি-কিরণ-হেন
৪৪৯.
মাটির সুপ্তিবন্ধন হতে
৪৫০.
আলো যবে ভালোবেসে
৪৫১.
দিন হয়ে গেল গত
৪৫২.
চাহিয়া প্রভাতরবির নয়নে
৪৫৩.
আকাশে তো আমি
৪৫৪.
লাজুক ছায়া বনের তলে
৪৫৫.
পর্বতমালা আকাশের পানে
৪৫৬.
ভিক্ষুবেশে দ্বারে তার
৪৫৭.
অসীম আকাশ শূন্য প্রসারি রাখে
৪৫৮.
ফুলগুলি যেন কথা
৪৫৯.
পথের প্রান্তে আমার তীর্থ নয়
৪৬০.
ফুরাইলে দিবসের পালা
৪৬১.
সূর্যাস্তের রঙে রাঙা
৪৬২.
দিন দেয় তার সোনার বীণা
৪৬৩.
সূর্য-পানে চেয়ে ভাবে
৪৬৪.
চেয়ে দেখি হোথা তব জানালায়
৪৬৫.
উতল সাগরের অধীর ক্রন্দন
৪৬৬.
সমস্ত-আকাশ-ভরা
৪৬৭.
স্ফুলিঙ্গ
৪৬৮.
কল্লোলমুখর দিন
৪৬৯.
মুক্ত যে ভাবনা মোর
৪৭০.
প্রভাতরবির ছবি আঁকে ধরা
৪৭১.
যত বড়ো হোক ইন্দ্রধনু সে
৪৭২.
বহু দিন ধ’রে বহু ক্রোশ দূরে
৪৭৩.
কোন খসে-পড়া তারা
৪৭৪.
বসন্ত পাঠায় দূত
৪৭৫.
প্রেমের আনন্দ থাকে
৪৭৬.
চিত্রবিচিত্র
৪৭৭.
নতুন দেশ
৪৭৮.
চলন্ত কলিকাতা
৪৭৯.
চিত্রকূট
৪৮০.
প্রহাসিনী
৪৮১.
রঙ্গ
৪৮২.
খাপছাড়া
৪৮৩.
দামোদর শেঠ
৪৮৪.
গোরা বোষ্টম বাবা
৪৮৫.
বর এসেছে বীরের ছাঁদে
৪৮৬.
রাজব্যবস্থা
৪৮৭.
ছড়ার ছবি
৪৮৮.
যোগিনদা
৪৮৯.
বাসাবাড়ি
৪৯০.
ঘরের খেয়া
৪৯১.
আকাশপ্রদীপ
৪৯২.
প্রান্তিক
৪৯৩.
যাবার সময় হল বিহঙ্গের
৪৯৪.
অবরুদ্ধ ছিল বায়ু
৪৯৫.
পশ্চাতের নিত্যসহচর
৪৯৬.
অবসন্ন চেতনার গোধূলিবেলায়
৪৯৭.
কলরবমুখরিত খ্যাতির প্রাঙ্গণে
৪৯৮.
পরমমূল্য
৪৯৯.
সেঁজুতি
৫০০.
ঘরছাড়া
৫০১.
পরিচয়
৫০২.
স্মরণ
৫০৩.
জন্মদিন
৫০৪.
আকাশপ্রদীপ
৫০৫.
বধূ
৫০৬.
শ্যামা
৫০৭.
ঢাকিরা ঢাক বাজায় খালে বিলে
৫০৮.
নবজাতক
৫০৯.
ইসটেশন
৫১০.
প্রজাপতি
৫১১.
রাতের গাড়ি
৫১২.
ছড়া
৫১৩.
শ্রাদ্ধ
৫১৪.
মামলা
৫১৫.
সানাই
৫১৬.
যক্ষ
৫১৭.
উদবৃত্ত
৫১৮.
সানাই
৫১৯.
রূপকথায়
৫২০.
অসম্ভব
৫২১.
জন্মদিনে
৫২২.
বরণ
৫২৩.
পথের শেষে
৫২৪.
ঐকতান
৫২৫.
রোগশয্যায়
৫২৬.
জপের মালা
৫২৭.
আমার দিনের শেষ ছায়াটুকু
৫২৮.
খুলে দাও দ্বার
৫২৯.
ধূসর গোধূলিলগ্নে
৫৩০.
আরোগ্য
৫৩১.
মুক্তবাতায়নপ্রান্তে
৫৩২.
ঘণ্টা বাজে দূরে
৫৩৩.
সংসারের প্রান্ত-জানালায়
৫৩৪.
ওরা কাজ করে
৫৩৫.
মধুময় পৃথিবীর ধূলি
৫৩৬.
গল্পসল্প
৫৩৭.
খোকার খেলনা
৫৩৮.
নাগ-কুমারী
৫৩৯.
পিয়ারি
৫৪০.
শেষ লেখা
৫৪১.
রূপ-নারানের কূলে
৫৪২.
প্রথম দিনের সূর্য
৫৪৩.
দুঃখের আঁধার রাত্রি
৫৪৪.
তোমার সৃষ্টির পথ
৫৪৫.
সংযোজন ২
৫৪৬.
তারকার আত্মহত্যা
৫৪৭.
ভানুসিংহ ঠাকুরের পদাবলী
৫৪৮.
অভিসার
৫৪৯.
কড়ি ও কোমল
৫৫০.
কাঙালিনী
৫৫১.
বঙ্গবাসীর প্রতি
৫৫২.
মানসী
৫৫৩.
নিষ্ঠুর সৃষ্টি
৫৫৪.
নিষ্ফল উপহার
৫৫৫.
ধ্যান
৫৫৬.
সোনার তরী
৫৫৭.
বিম্ববতী
৫৫৮.
বৈষ্ণবকবিতা
৫৫৯.
চিত্রা
৫৬০.
দুঃসময়
৫৬১.
অন্তর্যামী
৫৬২.
চৈতালি
৫৬৩.
সভ্যতার প্রতি
৫৬৪.
লিপিকা
৫৬৫.
সন্ধ্যা ও প্রভাত
৫৬৬.
সতেরো বছর
৫৬৭.
একটি দিন
৫৬৮.
পুনশ্চ
৫৬৯.
শিশুতীর্থ
৫৭০.
প্রান্তিক
৫৭১.
যেদিন চৈতন্য মোর
৫৭২.
নাগিনীরা চারি দিকে

নোট নিতে এবং টেক্সট হাইলাইট করতে লগইন করুন

লগইন
০%