রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
আজি এই আকুল আশ্বিনে
মেঘে ঢাকা দুরন্ত দুর্দিনে
হেমন্ত-ধানের ক্ষেতে বাতাস উঠেছে মেতে—
কেমনে চলিবে পথ চিনে?
দেখিছ না, ওগো সাহসিকা,
ঝিকিমিকি বিদ্যুতের শিখা?
মনে ভেবে দেখো তবে এ ঝড়ে কি বাঁধা রবে
কবরীর শেফালিমালিকা? ৷
আজিকার এমন ঝঞ্ঝায়
নূপুর বাঁধে কি কেহ পায়?
যদি আজি বৃষ্টিজল ধুয়ে দেয় নীলাঞ্চল,
গ্রামপথে যাবে কী লজ্জায়? ৷
হে উতলা, শোনো কথা শোনো—
দুয়ার কি খোলা আছে কোনো?
এ বাঁকা পথের শেষে মাঠ যেথা মেঘে মেশে,
ব’সে কেহ আছে কি এখনো? ৷
আজ যদি দীপ জ্বালে দ্বারে
নিবে কি যাবে না বারে বারে?
আজ যদি বাজে বাঁশি গান কি যাবে না ভাসি
আশ্বিনের অসীম আঁধারে? ৷
মেঘ যদি ডাকে গুরু-গুরু,
নৃত্য-মাঝে কেঁপে ওঠে ঊরু,
কাহারে করিবে রোষ— কার ’পরে দিবে দোষ
বক্ষ যদি করে দুরুদুরু? ৷
যাবে যদি, মনে ছিল না কি—
আমারে নিলে না কেন ডাকি?
আমি তো পথেরই ধারে বসিয়া ঘরের দ্বারে
আনমনে ছিলাম একাকী ৷ ৷
কখন প্রহর গেছে বাজি,
কোনো কাজ নাহি ছিল আজি ৷
ঘরে আসে নাই কেহ সারা দিন শূন্য গেহ
বিলাপ করেছে তরুরাজি ৷ ৷
যত বেগে গরজিত ঝড়,
যত মেঘে ছাইত অম্বর,
রাত্রে অন্ধকারে যত, পথ অফুরান হ’ত,
আমি নাহি করিতাম ডর ৷ ৷
বিদ্যুতের চমকানি-কালে
এ বক্ষ নাচিত তালে তালে—
উত্তরী উড়িত মম উন্মুখ পাখার সম
মিশে যেত আকাশে পাতালে ৷ ৷
তোমায় আমায় একত্তর
সে যাত্রা হইত ভয়ংকর ৷
তোমার নূপুররাজি প্রলয়ে উঠিত বাজি,
বিজুলি হানিত আঁখি-’পর ৷ ৷
কেন আজি যাও একাকিনী?
কেন পায়ে বেঁধেছ কিঙ্কিণী?
এ দুর্দিনে কী কারণে পড়িল তোমার মনে
বসন্তের বিস্মৃত কাহিনী? ৷
নোট নিতে এবং টেক্সট হাইলাইট করতে লগইন করুন
লগইন