রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
বুঝেছি আমার নিশার স্বপন হয়েছে ভোর ৷
মালা ছিল তার ফুলগুলি গেছে, রয়েছে ডোর ৷
নেই আর সেই চুপিচুপি চাওয়া,
ধীরে কাছে এসে ফিরে ফিরে যাওয়া—
চেয়ে আছে আঁখি, নাই ও আঁখিতে প্রেমের ঘোর ৷
বাহুলতা শুধু বন্ধনপাশ বাহুতে মোর ৷ ৷
হাসিটুকু আর পড়ে না তো ধরা অধরকোণে ৷
আপনারে আর চাহ না লুকাতে আপন মনে ৷
স্বর শুনে আর উতলা হৃদয়
উথলি উঠে না সারা দেহময়,
গান শুনে আর ভাসে না নয়নে নয়নলোর ৷
আঁখিজলরেখা ঢাকিতে চাহে না শরম চোর ৷ ৷
বসন্ত নাহি এ ধরায় আর আগের মতো,
জ্যোৎস্নাযামিনী যৌবনহারা জীবনহত ৷
আর বুঝি কেহ বাজায় না বীণা,
কে জানে কাননে ফুল ফোটে কিনা—
কে জানে সে ফুল তোলে কিনা কেউ ভরি আঁচোর ৷
কে জানে সে ফুলে মালা গাঁথে কিনা সারা প্রহর ৷ ৷
বাঁশি বেজেছিল, ধরা দিনু যেই থামিল বাঁশি ৷
এখন কেবল চরণে শিকল কঠিন ফাঁসি ৷
মধুনিশা গেছে, স্মৃতি তারি আজ
মর্মে মর্মে হানিতেছে লাজ—
সুখ গেছে, আছে সুখের ছলনা হৃদয়ে তোর—
প্রেম গেছে, শুধু আছে প্রাণপণ মিছে আদর ৷ ৷
কতই না জানি জেগেছ রজনী করুণ দুখে,
সদয় নয়নে চেয়েছ আমার মলিন মুখে ৷
পরদুখভার সহে নাকো আর,
লতায়ে পড়িছে দেহ সুকুমার—
তবু আসি আমি, পাষাণ হৃদয় বড়ো কঠোর ৷
ঘুমাও ঘুমাও— আঁখি ঢুলে আসে ঘুমে-কাতর ৷ ৷
কলিকাতা
বৈশাখ ১২৯৪
নোট নিতে এবং টেক্সট হাইলাইট করতে লগইন করুন
লগইন